Published on
:
2 min read
এই সময়: ২১ অক্টোবর, দশমীর দিন দিল্লি–বেঙ্গালুরু ফ্লাইটের ভাড়া ১০ হাজার টাকার আশপাশে। ২৪ অক্টোবর, মুম্বই–পুনে ফ্লাইট টিকিটের দাম সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশি। ২৫ অক্টোবর কলকাতা–হায়দরাবাদ ফ্লাইটের ভাড়া ১৫ হাজার!
পকেটে ছেঁকা ধরানো ফ্লাইট ভাড়ার এই আবহে সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার কেন্দ্রকে বলল, দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এ হেন ভাড়ায় রাশ টানতে তারা কী কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এক মাসের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে হবে আদালতে। পাল্টা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভাড়ায় লাগাম পরাতে কেন্দ্র যে নিয়ম আনছে, তাতে ‘ভারতীয় বায়ুযান অধিনিয়ম ২০২৪’–এর আওতায় প্রশাসনিক সায় মিলেছে। কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানিয়েছেন, নতুন এই নিয়ম দুই সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ্যে আনা হবে। যাত্রীদের প্রশ্ন, তবে কি চলতি বছরের শেষেই এই নির্বিচারে ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা কমতে চলেছে? ১৬ নভেম্বর শীর্ষ আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
এয়ারলাইন্সের যুক্তি, যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পাকিস্তান ও ইরানের আকাশ বন্ধ থাকায় অনেকটা ঘুরে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট অপারেট–সহ একাধিক কারণে খরচ অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে যাঁরা টিকিট কাটেন, তাঁদের থেকে বেশি টাকা নিয়েই খানিকটা সামাল দেওয়া হয়। এ বার তাতেও যদি বেড়ি পরানো হয়, তা হলে ব্যবসা গুটিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়াও তাদের যুক্তি, বেসরকারি কোনও সংস্থার প্রাইস (যা জীবনদায়ী বা নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নয়) সরকার এ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ইঙ্গিত মিলেছে, সরকার যদি নিয়ম এনে ফ্লাইট টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, তা হলে এয়ারলাইন্সও আইনের দ্বারস্থ হতে পারে। যদিও দেশের সর্বোচ্চ আদালতই এই প্রাইস ক্যাপ–এর পক্ষেই সওয়াল করে চলেছে। গত অগস্টে এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টকে বলতে শোনা গিয়েছে, কেন্দ্রের নিয়ম যদি কোনও এয়ারলাইন্স না মানতে চায়, তা হলে তাকে বসিয়ে দেওয়া হোক। তখনই কেন্দ্র জানিয়েছিল, যতক্ষণ না নিয়ম চালু হচ্ছে, ততদিন এয়ারলাইন্স যাতে ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গাইডলাইন মেনে চলে তা জানানো হয়েছে। কিন্তু, বাস্তব চিত্র অন্য কথা বলছে। শেষ মুহূর্তে সুযোগ বুঝে কোপ মারতে কসুর করছে না এয়ারলাইন্সগুলি।
সমাজকর্মী এস এল লক্ষ্মীনারায়ণনের করা জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ উঠেছিল, একই ফ্লাইটে একই গন্তব্যে যেতে বিভিন্ন যাত্রীকে বিভিন্ন ভাড়া দেওয়ার অর্থ সংবিধানে বর্ণিত সমান অধিকারের লঙ্ঘন। গত বছর তিনিই মামলা করে বলেন, ২৫ কিলোগ্রাম থেকে কমিয়ে চেক–ইন ব্যাগের ওজন ১৫ কিলো করা হয়েছে। কোনও আসনে বসতে গেলেও আলাদা টাকা গুনতে হচ্ছে। ফ্লাইট ফেয়ার–এর নজিরবিহীন ওঠানামা নিয়ন্ত্রণেরও আর্জি জানান লক্ষ্মীনারায়ণন। সেই মামলারই শুনানি ছিল শুক্রবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি আর মহাদেবন এবং বিচারপতি অপরেশ কুমার সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চে।
অভিযোগ, উৎসবের মরশুমের সুযোগ নিয়ে অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে একতরফা ভাবে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি নজরদারি না থাকলে এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলেও দাবি উঠেছে।
