
মোঃ ইফসান খাঁন ইমন, নাইক্ষ্যংছড়ি: | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১০
ছবি সংগৃহীত।
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ঘিলাতলীতে বাঁকখালী নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে গভীর পানিতে তলিয়ে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। তার নাম আবু বক্কর (১২)। সে ওই ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের মোঃ ওসমানের ছেলে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে জোহরের নামাজের পর বাঁকখালী নদীর ঘিলাতলী পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী গৃহিণী জাহেদা বেগম ও স্বজন মোহাম্মদ জাবেদ এ প্রতিবেদককে জানান, কিশোর আবু বক্কর বাবার সঙ্গে রোববার দুপুরে স্থানীয় ঘিলাতলী মসজিদে জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরে। এর পরপরই গরম লাগার অজুহাতে বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঁকখালী নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর নদীর পানির তোড়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় অর্ধশত যুবক ও সাধারণ মানুষ সঙ্গে সঙ্গে নদীতে নেমে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। অন্তত ১ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশত গজ দূরে তার সন্ধান মেলে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোহাম্মদ ওসমান গণি ও স্থানীয় ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম। তারা জানান, কিশোর আবু বক্করের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রায় ২০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৭

ছবি সংগৃহীত।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
মাদককে একটি নীরব ঘাতক উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার জন্য মাদক এক বড় হুমকি। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার ও মানোন্নয়নকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), হেরোইন ও গাজঁাসহ সব ধরনের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে বিজিবি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বদ্ধপরিকর।
বিজিবি মহাপরিচালকের সার্বিক দিকনির্দেশনা, কক্সবাজার রিজিয়ন সদর দপ্তর ও রামু সেক্টর সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই মাদকবিরোধী অভিযানসমূহ পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিজিবি সাফল্য অর্জন করেছে এবং আগামীতেও এই অভিযান আরও কঠোর করা হবে।
উল্লেখ্য, ৩৪ বিজিবির অধীনস্থ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিওপিসমূহ গত ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ হতে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২৪৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা এবং ১৫৫ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসব মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন, বিএসপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি; রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক, বান্দরবানের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) গত এক বছরে সর্বমোট ১৬০ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল জব্দসহ ২৮৫ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবির এই ব্যাটালিয়ন মাদক অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি আগামী দিনগুলোতেও মাদকবিরোধী অভিযানে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

মোঃ ইফসান খাঁন ইমন, নাইক্ষ্যংছড়ি: | রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৩

ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজারের উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির বিশেষ টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাস্টমস মোড় ডাকবাংলো নামক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরিত্যক্ত ও মালিকবিহীন অবস্থায় ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বিজিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, উদ্ধার করা ইয়াবার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের এবং জব্দ করা মাদক পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্তে অবৈধ মাদক প্রবেশ রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রামগড়ে দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে চাল বিতরণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামগড় (খাগড়াছড়ি): | শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৬

ছবি সংগৃহীত।
খাগড়াছড়ির রামগড়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি চালের অনুদান এবং সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১টায় রামগড় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা বিতরণ করেন ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দের আওতায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে রামগড় উপজেলার দুটি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে চাল এবং প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে ৫৯টি বৌদ্ধবিহারে প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে চালের সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে শিশুখাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ২৫০ গ্রাম গুঁড়া দুধ, ১ কেজি সুজি, ১ কেজি সাগু, ১ কেজি চিনি, এক প্যাকেট বড় আকারের বিস্কুট, ১০০ গ্রাম খেজুর, ৫০ গ্রাম বাদাম এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।
একই অনুষ্ঠানে আরও ৩০টি পরিবারের মাঝে গোখাদ্য সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে গমের ভূষি বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম। এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
