ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সকালে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত…
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২
জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি সকালে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আধুনিকায়ন করা এই উদ্যান ও নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকার পর উদ্যানটি জনসাধারণের প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পার্কটির গেট সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী উদ্যানের সামগ্রিক আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত থাকা এই পার্কটিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত করে সাজানো হয়েছে যাতে তা নগরবাসীর চিত্তবিনোদনের একটি আদর্শ স্থান হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আধুনিকায়নের ফলে পার্কটি এখন অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন এবং জনবান্ধব রূপ ধারণ করেছে। এর ফলে ঢাকা শহরের বাসিন্দারা কোলাহলপূর্ণ যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে এখানে এসে অবসর সময় কাটাতে পারবেন।
উদ্ধারকৃত ও পুনর্নির্মিত এই উদ্যানে হাঁটার জন্য প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বসার জন্য আধুনিক বেঞ্চ এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে সময় কাটানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করায় নগরবাসী এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া উদ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। রাজধানী ঢাকার সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের মানসিক প্রশান্তির খোরাক জোগাতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ওসমানী উদ্যানের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সদ্য নির্মিত ’জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’, যা জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে এই স্মৃতিস্তম্ভে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভ দর্শনের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম দেশের স্বাধীনতা ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং শহিদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
