আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবলের ফাইনালে সংঘর্ষ, যবিপ্রবির ৯ খেলোয়াড় আহত
মাহফুজুল ইসলামপ্রকাশ:
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে যবিপ্রবির নয়জন খেলোয়াড় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচ বর্জন করেছে যবিপ্রবির নারী ফুটবল দল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুই দলের মধ্যে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রথমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরুর সময় নির্ধারণ করা হলেও পরে তা এগিয়ে সকাল ১০টায় করা হয়।
যবিপ্রবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফাইনালের আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে বিভিন্ন জায়গায় খেলা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়। যবিপ্রবির দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে অভিযোগের সমাধান না করেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফাইনালে অংশ নেয়।
যবিপ্রবির অভিযোগ, খেলা শুরুর পর থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন দর্শক ও খেলোয়াড় তাদের খেলোয়াড়দের গালিগালাজ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় জ্যোৎস্না যবিপ্রবির খেলোয়াড় ফারিয়ার গলা চেপে ধরেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় যবিপ্রবির সামিয়ার গলা ও দুই হাত চেপে ধরা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ইলার বিরুদ্ধে এক খেলোয়াড়কে ঘুষি ও থাপ্পড় মারার অভিযোগও উঠেছে।
এ ছাড়া যবিপ্রবির অধিনায়ক সাদিয়া, আঁখি, সাগরিকা, শশি, অন্তিকা ও ছোয়াকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এতে আঁখির নখ ভেঙে যায় এবং ছোয়ার হাত ও হাঁটুতে আঘাত লাগে বলে জানানো হয়েছে।
যবিপ্রবির আরও অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ইলা গাছের ডাল ভেঙে তাদের খেলোয়াড়দের মারতে উদ্যত হন। এ সময় বাধা দিতে গেলে যবিপ্রবির শিক্ষার্থী মারুফকেও মারধর করা হয়। তার গলায় থাকা রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত সভায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে তারা ফাইনাল খেলতে সম্মতি দেন।
তিনি বলেন, খেলা শুরুর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা তাদের খেলোয়াড়দের গালিগালাজ করেন। বিষয়টি রেফারিকে জানাতে গেলে যবিপ্রবির খেলোয়াড় ছোয়াকে হলুদ ও লাল কার্ড দেখানো হয়। পরে ম্যাচ কমিশনারের কাছে প্রতিবাদ জানালে লাল কার্ড প্রত্যাহার করা হয়।
উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধর আরও বলেন, দ্বিতীয়ার্ধে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যবিপ্রবির এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পর প্রতিবাদ জানাতে গেলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা মারধর শুরু করেন। মাঠের বাইরেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আক্রমণাত্মক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হই।’
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
