মিলি রহমান।।
সহজে লভ্য ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যাভ্যাসে ছোলার বিশেষ কদর রয়েছে। রাজমা ও চিনাবাদামের সমগোত্রীয় এই শিম জাতীয় ফসলটি মূলত প্রোটিন, ফাইবার ও জটিল শর্করার এক চমৎকার উৎস।
স্বাস্থ্যের বিভিন্ন উপকারিতা প্রদানের পাশাপাশি কম খরচে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এটি একটি কার্যকর খাদ্য উপাদান।
বিশ্বজুড়ে প্রধানত দুই জাতের ছোলা দেখা যায়—সোনালি রঙের ‘কাবুলি’ ছোলা (যা প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় জনপ্রিয়) এবং ‘কালো ছোলা’ বা দেশি জাত (যা ভারত, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়ায় বেশি ব্যবহৃত হয়)। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এর চাষ হলেও ভারত ছোলার শীর্ষ উৎপাদক। চলুন, জেনে নিই ছোলার কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: ছোলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম এবং এতে থাকা বিশেষ শ্বেতসার (অ্যামাইলোজ) ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা: এতে থাকা পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, পটাসিয়াম, ফাইবার, আয়রন ও বি ভিটামিন রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
হজম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: উচ্চমাত্রার ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেটে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিবারণ করে রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ ও হাড়ের শক্তি: এতে সেলেনিয়াম ও বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে সহায়তা করে।
সতর্কতা ও যাদের এড়িয়ে চলা উচিত:
ছোলা প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন-মুক্ত হলেও অন্য ডালে অ্যালার্জি থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ফাইবার গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই খাদ্যতালিকায় এটি ধীরে ধীরে যোগ করা উচিত। এ ছাড়া ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা লো-ফডম্যাপ ডায়েট অনুসরণকারীদের জন্য ছোলা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।
