গণতন্ত্রে আপনি যদি আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে আপনাকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হবে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের গ্রেপ্তারিতে ঠিক ভাষাতেই কেন্দ্রকে নিশানা করলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি আন্নামলাই। তাঁর এই মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও।
বুধবার আন্নামলাই তাঁর এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন। লেখেন, ‘গণতন্ত্রে আপনি যদি আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে আপনাকে নানা বিশেষণে অভিহিত করা হবে। আপনাকে বিভিন্ন ধরনের আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে। আপনাকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ বলেও দাগিয়ে দেওয়া হবে।’ তাঁর বক্তব্য, সিজেপির প্রতিবাদকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা না দিয়ে, তাদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলির উত্তর কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া উচিত। তবে তিনি ‘আরশোলা’দের প্রতিবাদের পদ্ধতির সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করেননি। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন বিজেপি নেতা কেন্দ্রের কাছে বেশ কিছু বিষয়ের ব্যখ্যাও চেয়েছেন। সেগুলি হল – যন্তর মন্তরকে কেন প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরানো হল, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশকর্তাদের ক্ষমতা, গত ১৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়া সিজেপি নেতাদের জামিনের শুনানির প্রক্রিয়া ইত্যাদি।
আন্নামলাইয়কে পালটা জবাব দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, তিনি দ্বিচারিতা করছেন। দল ছাড়ার পর তিনি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেছেন। তামিলনাড়ু বিজেপির প্রধান মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি জানান, আন্নামলাই আগে এসআইআর প্রক্রিয়াটিকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, তামিলনাড়ুতে প্রচুর ভুয়ো ভোটার রয়েছে, যাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া প্রয়োজন। এসআইআরের বিরোধিতা করার জন্য ডিএমকের সমালোচনাও করেছিলেন। দিল্লি পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিরুপতি বলেন, “বিক্ষোভ যখন আইনি সীমা অতিক্রম করে, তখন পুলিশের পদক্ষেপ করা জরুরি হয়ে পড়ে। একজন প্রাক্তন আইপিএস কর্তা হিসাবে আন্নামলাইয়ের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত থাকাই কাম্য।”
