চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনির বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআনের আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গ এবং মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপের অভিযোগ তুলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ও গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া, গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করা, চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন ভুঁইফোড় পেজের অ্যাডমিনদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ছাত্রশিবিরের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, গুপ্ত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে শাখা ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘ছাত্রশিবির নিজেদের ইসলামী আদর্শের ধারক হিসেবে দাবি করে। অথচ ইসলামের মৌলিক শিক্ষা হলো সত্যনিষ্ঠা, অন্যের মর্যাদা রক্ষা, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো। কোনো মুসলিমের জন্য অন্যকে উপহাস করা এবং জালেম শাসকের বিরুদ্ধে নীরব থাকা বা তার সঙ্গে সহাবস্থান করা ইসলামী নৈতিকতার পরিপন্থী।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির সভাপতি ইব্রাহিম রনির হীন কর্মকাণ্ডে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং তা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একদিকে ধর্মের নামে রাজনীতি করা এবং অন্যদিকে ফ্যাসিবাদের প্রতি নীরবে সম্মতি উৎপাদন ও গুপ্ত থেকে সুবিধা নেওয়ার যে দ্বিচারিতা ইসলামী ছাত্রশিবির মঞ্চস্থ করেছে, তা মূলত ইসলামী আদর্শের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মূল্যবোধে আঘাত করার শামিল।’
লিখিত বক্তব্য তিনি আরও বলেন, কত বড় অমানুষ ও গুপ্ত হলে অসুস্থ ও কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আধিপত্যবাদবিরোধী আপসহীন একজন নেত্রীকে নিয়ে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’-এই কোরআনের আয়াতকে হাসির খোরাক বানাতে পারে! যখন গণতন্ত্রকামী ছাত্রসংগঠনগুলো রাজপথে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল, তখন ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল। তারা প্রকাশ্য প্রতিরোধে না গিয়ে ছাত্রলীগের ভেতরে গুপ্ত থেকে ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার সঙ্গে সহাবস্থানের কৌশল নিয়েছিল। এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পক্ষে সম্মতি উৎপাদনে ভূমিকা রেখে গেছে।
এর আগে, চাকসুর ভিপি ও ছাত্রশিবির সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনির ২০২০ সালের একটি প্রোগ্রামের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রোগ্রামে হানিফ সংকেত, ওবায়দুল কাদের ও বেগম খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করতে দেখা যায় তাকে।
