শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে নেওয়া সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা ও যমুনা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও টানেলে বড় ধরনের যানজট হয়নি। এ সময় গত বছরের তুলনায় পদ্মা, যমুনা ও মুক্তারপুর সেতুতে যানবাহন পারাপার এবং টোল আদায় বেড়েছে। তবে কর্ণফুলী টানেলে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায় কমেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে পদ্মা সেতুতে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬১৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ২৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে সেতুটি দিয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। টোল আদায় হয়েছিল ১৫ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা।
একই সময়ে যমুনা সেতুতে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪০১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা।
অন্যদিকে, কর্ণফুলী টানেলে ছয় দিনে ২৭ হাজার ৯১৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৭৯ লাখ ২৪ হাজার ৬৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে ২৯ হাজার ৮৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। টোল আদায় হয়েছিল ৮০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫০ টাকা।
মুক্তারপুর সেতুতে ১৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে ৭৮ হাজার ৭৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৫ টাকা। গত বছর একই সময়ে ৫৮ হাজার ৯৪৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। টোল আদায় হয়েছিল ৩৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৫ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্গাপূজায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা উল্লেখযোগ্য যানজটের ঘটনা ঘটেনি। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেতু ভবনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সেতু ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখা হয়।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা দিতে একটি হটলাইন নম্বরও চালু করা হয়। সেতুতে কোনো যানবাহন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থেমে গেলে সিসিটিভির মাধ্যমে তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট সাইট অফিসকে জানানো হয়। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় যানবাহনের চলাচল বাড়লেও উল্লেখযোগ্য যানজট না হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং যাত্রীদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া পদ্মা ও যমুনা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মুক্তারপুর সেতু, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিআরটি প্রকল্পসহ বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা তদারকি করেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা যানজট না হওয়া সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রস্তুতি ও সমন্বিত কার্যক্রমের প্রতিফলন। এ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাইট অফিস এবং টোল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা সহযোগিতা করেন।
