ছবির ক্যাপশন: .
মোকাররম উল আজাদ
"স্মৃতির পাখিরা ওড়ে নীলাঞ্জনার দেশে,
সাতনরি হার রঙধনু হয়ে
হৃদয়ে উঠেছে হেসে।"----এ
রোমান্টিকতার গভীরে আছে অতীতচারিতার স্বপ্নময় রঙ্গিন পৃথিবী।
আমার উত্থান দক্ষিন বাংলার সমুদ্র বিধৌত সুন্দরবন উপকূলস্ত কপোতাক্ষ ও খোলপাটুয়া নদীর মিলন মোহনায় গড়েওঠা সাতক্ষীরার সীমান্তঘেষা জনপদ শ্যামনগরের অজপাড়া গাঁ পাতাখালি।
শৈশব ও কৈশোরের দূরান্ত বর্নালী দিন গুলি আজ মৃত্যু অতীত। খালপাড়ের বনাচ্ছাদিত পল্লীর কর্দমাক্ত পথে বিচারন সোদা, সোদা মাটির গন্ধ,দলদলে এক হাটু কাদা মেখে সহপাঠী সতীর্থদের সাথে হৈহুল্লড়ে আড্ডা দেওয়ার পড়ন্ত বিকেল আজ আমাকে বড্ডো কাছে টানে।
কর্মব্যস্ত জীবনে
এমনি করে ভাবার অবসর
হয়নি কখনো। আজ যখন স্মৃতির
জানালা খুলে পিছে ফিরলাম
তখন বৈশাখী মেঘের মতো হৃদয়াকাশে ভেসে
আসছে হাজারো ঘটনা,হাজারো কথা।
স্কুল ফাকি দিয়ে নদীর জলে সাতরানো,মাছধরা অকারনে কাদাছোড়াছুড়ি, বাশের পুলের উপর থেকে নদীর জলে ঝাপ দেয়া, কি মধুময় দিনগুলি। বিলমাঠের সেই ঘোড়া ভেড়ার আটদলীয় ফুটবল খেলা।গ্রামোফোনে ভেসে আসা পুরানো দিনের বাংলা গান, ও ঠাকুর ঝি আর দুমুঠো চাল ফেলে দে হাড়িতে, ঠাকুর জামাই এলো বাড়িতে। অথবা, ও বাবু চ্যাংড়া রে গাছে উঠে পাকা জলপাই পাইড়াদে।
সত্যি আজো সে গানের সুর মনপ্রান উতলা করে দেয়। কাল বৈশাখীরঝুড়ো মেঘ,ফুটবল মাঠের দর্শকদের ঠেলাঠেলি,গোল বলে চিৎকার, চেচামেচি তারপর সে উল্লাস মূহুর্তে রুপ নেয় মারামারি,কে শোনে কার কথা,ছাতা লাঠি,জুতা ফেলে দৌড়, ভোদৌড়। সাতগ্রামের লোকদের ভীড়ে খেয়াপার হতে এসে নৌকাডুবি।-----
চলবে---
মোকাররম উল আজাদ
