ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের টিকিট দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার ও টিকিট কালেক্টরকে (টিসি) মারধর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে এ হামলা হয়।
হামলায় ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার সাকির জাহান ও টিকিট কালেক্টর সঞ্জিত মণ্ডল আহত হয়েছেন। তাদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর ‘মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের টিকিট পরীক্ষা করছিলেন টিসি সঞ্জিত মণ্ডল। ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের প্রধান ফটকে এক যাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরে তাকে স্টেশন থেকে বের হওয়ার ফটকে আটকে রাখা হয়। এ নিয়ে ওই যাত্রীর সঙ্গে টিসির বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সঞ্জিত মণ্ডল ওই যাত্রীকে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে ওই যাত্রী ফোন করে তার সহযোগীদের ডেকে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন যুবক সেখানে জড়ো হন। ওই যাত্রী নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে স্টেশন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলম মিয়া বিষয়টি মীমাংসা করে ওই যাত্রীকে ছেড়ে দেন।
স্টেশন কর্মকর্তা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁড়ি থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে ওই যাত্রী আরও ৮ থেকে ১০ জন যুবককে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটাসহ স্টেশনে আসেন। এ সময় স্টেশন মাস্টারের কক্ষের সামনে টিসি সঞ্জিত মণ্ডলকে একা পেয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার সাকির জাহান। হামলাকারীরা তাকেও মারধর করেন। পরে স্টেশনের অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার সাকির জাহান বলেছেন, “ট্রেনে বিনা টিকিটে ভ্রমণ করা এক যাত্রীকে আইন অনুযায়ী আটক করায় টিকিট কালেক্টরের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমিও হামলার শিকার হই। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শাহ আলম মিয়া বলেছেন, “রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্টেশন কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। হামলাকারীরা শহরের কান্দিপাড়া এলাকার মাইমলহাটির বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
