Published on
:
1 min read
এই সময়, মেদিনীপুর: তিনশো বছরের প্রাচীণ চন্দ্রকোণা রোডের কোলে পরিবারের পুজো। ষষ্ঠীর দিন কুলদেবতী বিষ্ণুর মূর্তি নাটমন্দিরে নিয়ে আসার পরেই শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। পারিবারিক রীতি মেনে পুজোর চারদিন নাটমন্দির সাজানো হয় শাল–মহুল গাছের পাতা দিয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, যখন পাকা কোনও মন্দির দালান ছিল না তখন এই ভাবে গাছের পাতা দিয়েই ছাউনি তৈরি করে দেবীর পুজো করা হতো। সেই নিয়ম আজও চলে আসছে।
পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য জানাচ্ছেন, প্রায় ৩০০ বছর আগে দুই ভাই নবীনচন্দ্র কোলে ও রামেশ্বর কোলে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সে সময়ে পুজোর জন্য ‘আড়া অর্থাৎ প্রায় ১৬ কুইন্টাল চাল’ নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হতো। এখনও জমিদারি না থাকলেও চাল নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়ার রীতি আজও রয়ে গিয়েছে। বর্তমানে পুজোর চারদিন দুর্গাকে নৈবেদ্য হিসেবে এক কুইন্টাল চাল দেওয়া হয় এবং সঙ্গে বিভিন্ন ফল ও মিষ্টি থাকে।কোলে পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে এবং ভিন জেলায় ছড়িয়ে থাকলেও পুজোর চারদিন তাঁরা বাড়িতেই কাটান। মঙ্গলপাড়ার প্রাচীন বাড়িটি পুজোর চারদিন যেন প্রাণ ফিরে পায়।
২০১৪–তে পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে পুজোর জন্য ‘শ্রী দুর্গা ট্রাস্টি বোর্ড’ গঠন করা হয়েছিল। সেই বোর্ডই সুষ্ঠু ভাবে প্রতিবছর পুজো পরিচালনা করে থাকে। প্রতিমা তৈরি থেকে ঢাকশিল্পী সকলেই বংশানুক্রমিক ভাবে কাজ করেন এই পরিবারের পুজোয়। এই পুজো দেখতে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ভিড় করেন।
