খুলনা গেজেট অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে মানসিক ভারসাম্যহীন ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ফজলুল হক দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কারী রুহুল আমিনের ছেলে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহানের খাস কামরায় তিনি এ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে ফজলুল হকের চাচাতো ভাই বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে এসআরবি সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং জড়িত অন্যদের নাম প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে ফজলুল হক দাবি করেন, শামীমকে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না, ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফজলুল হককে বীরত্ব প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছিল।
দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান শামীম গত ১০-১২ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। মহানবীকে (সা.) কটূক্তির একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ার জের ধরে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফজলুল হকের নেতৃত্বে শামীমের বাড়ি ভাঙচুর ও তাকে পিটিয়ে জখম করা হয় ।পরদিন ১৪ অক্টোবর ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে ফজলুল হকের নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে ডাক্তার, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সামনে তৃতীয় দফায় তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় ফজলুল হক আমিনী, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম ও ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি কামরুল গাজীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
খুলনা গেজেট/এএজে
