একটি রয়েছে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে, আরেকটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে চাহিদা না থাকায় গ্যাসের উৎপাদনও ৬ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
এতে করে দেশীয় গ্যাসের গড় উৎপাদন প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৬০০ মিলিয়নের নিচে নামল। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশীয় উৎপাদন ১৫৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন আমদানি ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুটসহ মোট সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ডে দৈনিক প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এরমধ্যে ভোলায় থাকা দু’টি গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় ৬৮ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ দেওয়া হয়। ২২০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে শাহবাজপুরের উৎপাদন নেমে গেছে ৬ মিলিয়ন ঘনফুটে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (চেয়ারম্যান) প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, কুলিং সিস্টেমে সমস্যা ধরা পড়ায় দুপুরের দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। আমাদের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন, আশা করছি রাতের মধ্যেই চালু করা সম্ভব হবে।
গ্যাস সংকট পিছু নিয়ে গত ২১ জুলাই থেকে, এরপর একেক সময়ে একেক রকম সংকটে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর যেহেতু গ্যাসের উপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎ খাত, তারাও সংকট থেকে বের হতে পারছে না।
২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্যাস সংকটের সুত্রপাত। কয়েক সপ্তাহ পরে এফএসআরইউ মেরামত হলেও শুরু হয় কার্গো সংকট। ডিপিএম পদ্ধতিকে ৪ কার্গো এলএনজি আমদানির আদেশ দেওয়া হয়। যেগুলো কোনটাই দেশে আসেনি, যে কারণে মারাত্মক গ্যাস সংকট চলমান। প্রায় দুই মাস পর (১৪ সেপ্টেম্বর) আমদানি পুর্বের অবস্থায় ফিরলে গ্যাস সংকট অনেকটা কমে আসে।
এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুদ কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। উদ্বেগের বিষয় বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদন কমে যাওয়া। ফিল্ডটি থেকে এখনও সাড়ে ৪৫ শতাংশের মতো গ্যাস যোগান আসছে। আর কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এক সময়ে ১৩৫০ মিলিয়নের মতো উৎপাদন দিতো, এখন ৭৩০ মিলিয়নে নেমে গেছে। মজুদ কমে আসায় দ্রুতই কমে যাচ্ছে উৎপাদন।
চাহিদা যখন বাড়ন্ত তখন প্রতিদিনেই কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন। চাইলেও সহসা আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে, যা খুবই সময় সাপেক্ষ।যে কারনে আসছে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনে ব্যাপক ধসের শঙ্কার কারণে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী দেশে ৮টি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৫ হাজার ৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক)।মতান্তরে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিবেচনা করা হয়। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।
গ্যাসের ঘোষিত চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বাইরে এক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে ৩৭৯টি শিল্পের বিপরীতে প্রতিশ্রুত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। যারা কোটি কোটি টাকা জামানত দিয়ে জুতার তলা ক্ষয় করছেন। অন্যদিকে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার উৎপাদনেও।৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১২১ মিলিয়ন ঘনফুট।
একদিকে যখন এলএনজি সরবরাহ সংকট অন্যদিকে ভর্তুকি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৬-২৭) জ্বালানি খাতে ভতুর্কি বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রথম দুই মাসেই (জুলাই-আগস্ট) ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বছরের আরও ১০ মাস নিয়ে চিন্তায় রয়েছে পেট্রোবাংলা।
