স্টাফ রিপোর্টার।।
রাজধানীর ভাটারা থানা শ্রমিক লীগের চিহ্নিত নেতা ও একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জিয়াউল হক জিয়া এবং তাঁর স্ত্রী, মহিলা লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রোজিনা সুলতানার বিরুদ্ধে খুলনায় আত্মগোপনে থেকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। চব্বিশের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা থেকে পালিয়ে তারা খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা দক্ষিণপাড়ায় আত্মগোপন করেন। সেখানে অবস্থান করেই বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং মাদকবিরোধী স্থানীয় নেতাকর্মীদের দমনে মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন তারা।
মাদকবিরোধী আন্দোলন দমনে হয়রানিমূলক মামলা:
স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, খানজাহান আলী থানার গিলাতলা দক্ষিণপাড়া এলাকায় সম্প্রতি মাদকবিরোধী আন্দোলন জোরদার হলে অসাধু চক্রটি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা ‘জিয়াগং’ ও তাদের সহযোগীরা মূলত এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিদের পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে মাঠে নেমেছে। এরই অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীকে দমাতে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের পুলিশের কাছে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নে পরিকল্পিত তৎপরতা:
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বাসিন্দাদের দাবি, নিজেদের আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী পরিচয় গোপন রেখে ‘জিয়াগং’ ছদ্মবেশে রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং তৃণমূল বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার গভীর চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছে।
অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা:
খুলনায় জিয়াউল হক জিয়া ও রোজিনা সুলতানা দম্পতির অপরাধের চিত্র নতুন নয়। এর আগেও খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন শিরোমণি ও গিলাতলা এলাকায় অর্থ আত্মসাৎ, জোচ্চুরি, ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জিয়াউল হক জিয়া এবং তাঁর স্ত্রী রোজিনা সুলতানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা করা হয় (মামলা নম্বর: সি.আর. ৬০৯/২০২৫)। এছাড়া রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানাতেও জিয়াউলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) রয়েছে।
সুষ্ঠু তদন্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি:
অঞ্চলটির সচেতন নাগরিক ও বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা অবিলম্বে ভাটারা থানা শ্রমিক লীগ নেতা জিয়াউল হক জিয়া ও তাঁর সহযোগী রোজিনা সুলতানাকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দায়ের করা মিথ্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রশাসন যেন দ্রুত এই আত্মগোপনকারী ষড়যন্ত্রকারীদের আইনি আওতায় এনে এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং কোনো নিরীহ নেতাকর্মী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে।
