Published on
:
2 min read
এই সময়, কোচবিহার: এ বার পুজোয় একদা নিজের খাসতালুক দিনহাটাতেই থাকছেন উদয়ন গুহ। তবে নিজের বাড়িতে নয়। পুলিশি হেফাজতে। দিনহাটার বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অজয় রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয় প্রাক্তন এই মন্ত্রীকে। সেখানে বিচারক তাঁকে তিনদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
গত কয়েক বছর পুজোয় চরম ব্যস্ততা ছিল উদয়ন গুহর। দিনহাটার অঘোষিত শেষ কথা ছিলেন তিনি। নিজের পাড়া থেকে শুরু করে এলাকার একাধিক পুজোর উদ্বোধন করতেন। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরতেন। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই চিত্রটা একেবারেই পাল্টে গিয়েছে। ভোটে হারার পর থেকে বেশ কিছুদিন ‘নিখোঁজ’ ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। পরে কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে একবার পুলিশ হেফাজত আরেকবার জেল হেফাজতে থাকতে হচ্ছে উদয়নকে। পুজোর আগে বিভিন্ন মামলায় বালুরঘাট সংশোধনাগারে ছিলেন তিনি। তবে বর্তমান বিধায়কের একটি মামলায় তাঁকে পুজোর মধ্যে ফের দিনহাটাতেই টেনে নিয়ে এল। পুজোর ক’দিন গোটা দিনহাটা যখন আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে, সেই সময় দিনহাটা থানাতেই কাটাতে হবে একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতাকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয় রায় চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দিনহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, গত বছর ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাঁর অনুপস্থিতিতে তৎকালীন দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহের প্ররোচনায়—আমির আলম, পার্থ সাহা, রানা বণিক, আরিফুল রহমান, মনোজ দে এবং দুলাল মিঁয়া–সহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্রের নিয়ে দিনহাটা পুর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িতে হামলা চালান। বাড়ির টিনের গেট ভেঙে ফেলে একটি মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। বাড়িতে বোমাও ছোড়া হয়। যার ফলে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিগত বিদ্বেষমূলক গালিগালাজও করেন হামলাকারীরা বলে অভিযোগ।
আর এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উদয়নকে বালুরঘাট সংশোধনাগার থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় নিয়ে এসে এদিন কোচবিহার আদালতে পেশ করা হয়। এরপর বিচারকের নির্দেশ মতো তাঁকে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে দিনহাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন কোচবিহার আদালতে উদয়নের কোনও অনুগামীর দেখা মেলেনি। আদালতে তোলার সময়ে প্রাক্তন মন্ত্রীকে প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দিতে চাননি।