ফ্রান্সের আভিনিওঁ শহরে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ নিউক্লিয়ার কংগ্রেস (আইওয়াইএনসি) ২০২৬ সম্মেলনে বিশ্বের সেরা ‘ইয়াং জেনারেশন নেটওয়ার্ক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ ইয়ুথ নিউক্লিয়ার কংগ্রেস (বিওয়াইএনসি)। সংস্থাটির ২৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই জাতিসংঘ, রাশিয়া, ইউরোপিয়ান নিউক্লিয়ার সোসাইটি, এশিয়া ও জাপানের মতো শক্তিশালী নেটওয়ার্কগুলোকে পেছনে ফেলে মর্যাদাপূর্ণ ‘জুয়ান আলবার্তো গনজালেজ গারিদো অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের প্যারিস হামলায় নিহত আইওয়াইএনসি কর্মকর্তা জুয়ান আলবার্তোর স্মরণে ২০১৬ সাল থেকে প্রবর্তিত এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারটি মূলত তরুণ পেশাজীবীদের কার্যকর নেতৃত্ব, সদস্য পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবসম্মত সেবামূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়।
আইওয়াইএনসির ৪৯তম জাতীয় সদস্য সংগঠন হিসেবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বপর্যায়ে লাল-সবুজের পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে বিওয়াইএনসি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাহমুদুল হাসান সামী এই অর্জনকে পুরো বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় হিসেবে উল্লেখ করে জানান, একদল তরুণের স্বপ্ন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ দর্শক থেকে নেতৃত্বের আসনে আসীন হয়েছে। তিনি এই ঐতিহাসিক অর্জনের পেছনে সংগঠনের প্রতিটি সদস্য, উপদেষ্টা, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের ইতিবাচক উপস্থিতিকে আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফ্রান্সের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের ভিত তৈরি হয়েছিল দেশের মাটিতে গত ৮ আগস্ট। ওই দিন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে (এআইইউবি) বিওয়াইএনসির উদ্যোগে আয়োজিত হয় তরুণদের সর্ববৃহৎ পরমাণু বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী সম্মেলন ‘আইফোরএন এক্স ইনোভেঞ্চার বাংলাদেশ ২০২৬’। প্রায় ৫০০ জন গবেষক ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ আলী জুলকারনাইন এবং ফ্রান্স থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন আইওয়াইএনসি সভাপতি বেনোয়া এরবাশার। সেই জাতীয় আসরের প্রধান প্রতিযোগিতায় ১৫টি এবং পোস্টার ও প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে ৭০টি দল অংশ নেয়, যার মধ্যে বিজয়ী হওয়া দল ‘টিম রেডসেফ’ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সমর্থিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আভিনিওঁতে অংশ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রতিষ্ঠার মাত্র এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই শিক্ষার্থী গবেষকদের সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, এনপিসিবিএল, বায়রা, বুয়েট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও এমআইএসটির মতো জ্যেষ্ঠ গবেষক ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মেলবন্ধন তৈরি করে প্রশংসিত হয় সংগঠনটি। এই উদ্যোগগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে এআইইউবি এবং সহায়ক হিসেবে যুক্ত ছিল রাশিয়ান হাউস। এছাড়া তরুণদের এই মেধাভিত্তিক পথচলায় টাইটেল স্পন্সর হিসেবে সুপারসাইন কেবলস, গোল্ড স্পন্সর হিসেবে মেঘনা ব্যাংক, সিলভার স্পন্সর হিসেবে আকিজ ব্লু পিল এবং এডুকেশন পার্টনার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইডিপি।
স্বেচ্ছাসেবা ও উদ্ভাবনী এই বৈশ্বিক সাফল্যের নেপথ্যে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান দুই উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক লে. কর্নেল মোঃ আলতাব হোসেন। বিওয়াইএনসি সভাপতি মাহমুদুল হাসান সামী ছাড়াও সহ-সভাপতি সাদিয়া নওশীন প্রমি, সাধারণ সম্পাদক নাজিফা তাসনিম, ট্রেজারার জারিন তাসনিম আনজুম, উপদেষ্টা ফাহিম আনান, ওয়েবমাস্টার তামিম মুহাম্মদ রাঈদসহ আটজন কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা এবং একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকের সম্মিলিত পরিশ্রমে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু নীতি ও আধুনিক বিজ্ঞানের আসরে বাংলাদেশের এই গৌরবময় সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
