দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টিনিরাপত্তায় বিআরআইয়ের অবদান, বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক উপস্থাপনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেন, ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষিকে বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষি খাতের উন্নয়নে গবেষণার পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের যথাযথ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এর আগে রাষ্ট্রপতি বারির প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছালে কৃষিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
রাষ্ট্রপতি বারির ‘জিন ব্যাংক’ পরিদর্শন করেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তাকে কৃষি গবেষণায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও অর্জন সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বারির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কাদের। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পুষ্টিনিরাপত্তায় বারির অবদান, বর্তমান অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন বারির পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশাররফ হোসেন মোল্লা।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, কৃষিবিজ্ঞানী, বারির বিভিন্ন কেন্দ্র, বিভাগ ও শাখার জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি গবেষণার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বারির ভূমিকা দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুষ্ঠানে উঠে আসে।
