বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা বাজারসংলগ্ন আলোমনি ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে পেট্রলপাম্পটির পাশাপাশি সংলগ্ন বেশ কয়েকটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ও জনমনে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে হঠাৎ করেই ফিলিং স্টেশনটির ভেতর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর তীব্রতা দ্রুত বাড়তে থাকে। পেট্রলপাম্পের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত দুটি বসতবাড়ির বেশ কয়েকটি ঘর এই আগুনের গ্রাসে পড়ে, যার মধ্যে দুটি ঘর সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের ভয়ানক রূপ দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সারিয়াকান্দি ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা ব্যাপক হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে বগুড়া সদর ও গাবতলী ফায়ার স্টেশন থেকেও আরও দুটি ইউনিটকে তলব করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের মোট চারটি ইউনিটের দীর্ঘ প্রায় দেড় ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই পাম্পের স্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির মূল্যবান আসবাবপত্র পুড়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়।
সারিয়াকান্দি ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুজন মিয়া গণমাধ্যমকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই ফিলিং স্টেশনটিতে নিয়মিতভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে ড্রামে করে ডিজেল, অকটেনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করা হতো। এই অনিয়ম ও অসাবধানতার কারণে আগুনের তীব্রতা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উৎস থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
এদিকে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ফিলিং স্টেশন পরিচালনা এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করে ড্রামে জ্বালানি তেল বিক্রির মতো বিপজ্জনক প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
