উৎসবের রেশ কাটতেই ক্লান্তি, অবসাদের ঢেউ। পুজোর পর এমন সমস্যার মুখোমুখি হন অনেকেই। কান্ত শরীরকে চনমনে করে তুলতে প্রয়োজন রোজের জীবনযাত্রায় খানিক পরিবর্তন।
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৩৫
পুজো শেষ। উৎসবের অসমাপ্ত রেশ নিয়েই ফিরতে হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে। স্কুল-কলেজ ও অফিসের একঘেয়েমি কাটিয়ে ওঠার আগেই শরীর ক্লান্ত! সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, কাজে মন না বসা, ঘুম থেকে উঠেই অবসাদ, এ যেন বর্তমানে হয়ে উঠেছে রোজনামচারই অংশ।
০২ / ০৯
পুজোর পর এমন সমস্যার মুখোমুখি হন অনেকেই। উৎসব-শেষের মনখারাপ তো আছেই, উপরন্তু টানা রাত জেগে ঠাকুর দেখা, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রামের অভাব, শরীরের স্বাভাবিক রুটিনে প্রভাব ফেলতে পারে।
০৩ / ০৯
ক্লান্ত শরীরকে চনমনে করে তুলতে প্রয়োজন রোজের জীবনযাত্রায় খানিক পরিবর্তন। এক দিনে ফল না মিললেও ধীরে ধীরেই ফিরুন স্বাভাবিক নিয়মে।
০৪ / ০৯
প্রথমেই আসে ঘুম। সারাদিনে ঘুমের সময় ঠিক রাখুন। ক্লান্তি কাটানোর সেরা উপায় হল পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা এবং সাত থেকে নয় ঘণ্টা বিশ্রাম নিশ্চিত করতে পারলেই শরীর ফিরবে পুরনো মেজাজে।
০৫ / ০৯
পর্যাপ্ত জল পান করার দিকেও নজর দিন। পুজোর ভিড়ে ঘোরাঘুরি, ঠাকুর দেখা, সবকিছুর ফাঁকে শরীরে জলের ঘাটতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর ফলেও ক্লান্তি, মাথাধরা এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।
০৬ / ০৯
শরীরের চাহিদা অনুযায়ী জল পান করার পাশাপাশি নিয়মিত ফল, শাকসবজি ও জলসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ারও অভ্যাস গড়ে তুলুন।
০৭ / ০৯
পুজোর পর শারীরচর্চার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে কঠিন ব্যায়াম বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি দিয়েও শুরু করতে পারেন। শরীর সঙ্গ দিলে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে দিন।
০৮ / ০৯
চা-কফির উপর অতিরিক্ত নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। ক্যাফিন সাময়িক ভাবে কাজে আসলেও পর্যাপ্ত ঘুমের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এটি। পাশাপাশি প্রাধান্য দিন মনের বিশ্রামকেও।
০৯ / ০৯
তবে সাবধান! পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং বিশ্রামের পরেও যদি ক্লান্তি না কমে, বা সেই সঙ্গে ভোগায় শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ, তা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত যোগাযোগ করুন চিকিৎসকের সঙ্গে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)
পরবর্তী গ্যালারি
শুধু ভোগ নয়, ইলিশের বিয়েও! লক্ষ্মী-সরস্বতীর পুজোয় জোড়া মাছ ঘিরে কোন লোকাচার?
দুই দেবীর পুজোতেই জোড়া ইলিশ নিবেদনের রীতি! ভোগের এই বৈচিত্র্যের নেপথ্যে রয়েছে বাংলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় বিশ্বাস, লোকসংস্কৃতি এবং দীর্ঘদিনের আচার-অনুষ্ঠান।
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫৪
০১ / ১১
লক্ষ্মীপুজোর দিন বাঙালির বেশ কিছু বাড়িতে জোড়া ইলিশ নিবেদনের রীতি রয়েছে। মূলত পূর্ববঙ্গের বাঙালি, অর্থাৎ বাঙালদের বাড়িতেই এই প্রথা বেশি দেখা যায়। দেবীর আরাধনায় ভোগের এই বিশেষ আয়োজন বহু দিন ধরেই চলে আসছে।
০২ / ১১
লক্ষ্মীপুজোর ভোগে অবশ্য বৈচিত্র্য রয়েছে। এ পার বাংলার বাঙালি, অর্থাৎ ঘটিদের বাড়িতে কোজাগরী পূর্ণিমায় সাধারণত দেবী লক্ষ্মীকে খিচুড়ি, লাবড়া, আলুর দম, পাঁচ রকমের ভাজা, লুচি-সহ নানা পদ নিবেদন করা হয়। পারিবারিক রীতি মেনেই সাজানো হয় দেবীর ভোগের থালা।
০৩ / ১১
অন্য দিকে, বাঙালদের বাড়িতে খিচুড়ি কিংবা লুচির পাশাপাশি দেবী লক্ষ্মীর ভোগে থাকে জোড়া ইলিশ। দুই বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির এই পার্থক্য লক্ষ্মীপুজোর ভোগেও ধরা পড়ে। একই দেবীর আরাধনা হলেও ভোগের আয়োজনে ফুটে ওঠে নিজস্ব পরম্পরা।
০৪ / ১১
বছরের এই সময় পর্যন্ত বাজারে ভাল ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তাই মরসুমের শেষ ইলিশ দেবী লক্ষ্মীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। লোকবিশ্বাসে, বছরের শেষ ইলিশটি দেবীর উদ্দেশে উৎসর্গ করার এই প্রথাই আজও বাঙালদের বহু বাড়িতে বজায় রয়েছে।
০৫ / ১১
বাজার থেকে ইলিশ কিনে এনে তা ধুয়ে সিঁদুর লাগিয়ে জোড়া মাছ দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি চলে আসছে বাঙাল বাড়িতে। তবে কোজাগরীর উপবাসের পরে খিচুড়ি-লাবড়া, না কি ইলিশের ঝোল, কোনটি বেশি প্রিয়, সেই তর্ক বাঙাল ও ঘটিদের মধ্যে চলতেই থাকবে!
০৬ / ১১
সাধারণত এই মাসের পর থেকে সরস্বতীপুজো পর্যন্ত বাজারে ইলিশ মাছ আর সহজে পাওয়া যায় না। এই সময় ইলিশ ধরলে পরিণত মাছ মেলার সম্ভাবনাও কম থাকে। পরিণত ইলিশ পাওয়ার জন্য সরস্বতীপুজো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বলেই প্রচলিত বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বছরের প্রথম ইলিশ ঘিরে নানা আচার।
০৭ / ১১
সরস্বতীপুজোর দিন জোড়া ইলিশ বরণ পূর্ববঙ্গীয়দের অন্যতম লোকাচার। শুধু মাছ কেনা বা রান্না নয়, এই দিনটিকে ঘিরে কিছু বাড়িতে রয়েছে ইলিশ মাছের বিয়ের রীতিও। সরস্বতীপুজোর সঙ্গে সরাসরি যোগ না থাকলেও এই প্রথা পূর্ববঙ্গের পারিবারিক সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের অঙ্গ হয়ে উঠেছে।
০৮ / ১১
সরস্বতীপুজোর সকালে কাঁচা হলুদ মেখে স্নান করার পর বাজার থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে আসার রীতি রয়েছে কিছু বাঙাল বাড়িতে। ধান, দূর্বা, তেল, সিঁদুর ও কাঁচা হলুদ দিয়ে মাছটি বরণ করা হয়। উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মধ্যে কুলোয় সাজিয়ে সেই মাছ বাড়িতে প্রবেশ করানো হয়। এ ভাবেই আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় জোড়া ইলিশ বরণের পর্ব।
০৯ / ১১
ইলিশ বরণের আয়োজনেও রয়েছে পারিবারিক বৈচিত্র্য। কিছু পরিবারে জোড়া ইলিশের সঙ্গে রাখা হয় দুটি গোটা বেগুন ও লাউয়ের ডগা। আবার কোথাও জোড়া মাছের বদলে আনা হয় একটি ইলিশ। সেই মাছটিকে নারীর রূপে বরণ করে একটি নোড়ার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার রীতিও প্রচলিত রয়েছে।
১০ / ১১
শীতল ষষ্ঠী, অর্থাৎ সরস্বতীপুজোর পরের দিন ঘটিদের বাড়িতে গোটা সেদ্ধ রান্না করার চল রয়েছে। তেমনই বাঙালদের বাড়িতে জোড়া ইলিশ বরণের পর মাছ রান্নার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। ফোড়ন ও অন্যান্য তরকারি একসঙ্গেই কড়াইতে দিতে হয়। এই পদে কোনও গুঁড়ো মশলা ব্যবহার করা হয় না। কাঁচা হলুদ ও কাঁচা লঙ্কা দিয়েই রান্না করা হয় মাছটি।
১১ / ১১
লক্ষ্মীপুজোয় জোড়া ইলিশ নিবেদনের মতো সরস্বতীপুজোয় ইলিশ বরণের নেপথ্যেও রয়েছে একটি লোককথা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুজোয় বছরের শেষ ইলিশ দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করা হয়। আর সরস্বতীপুজোয় বছরের প্রথম ইলিশ দেবী সরস্বতীকে উৎসর্গ করার পরেই তা খাওয়া শুরু করেন বাঙালিরা। বছরের শেষ ও প্রথম ইলিশকে ঘিরে এই দুই রীতির মধ্যে দিয়ে ধরা পড়ে বাঙালির উৎসব, খাদ্যসংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের নিবিড় যোগ। এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।
