Published on
:
2 min read
এই সময়: প্যান্ডেল হপিংয়ের ফাঁকে ফুচকা, রোল, চাউমিন কিংবা বিরিয়ানি। পুজোর রাতে রাস্তার ধারের দোকানে দাঁড়িয়ে মুখরোচক খাবার খাওয়ার জন্য ফুডি হওয়ার দরকার নেই, নিছক পুজোর গন্ধটাই যথেষ্ট। তার আনন্দও আলাদা। কিন্তু সেই খাবার তৈরি হচ্ছে কতটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে– পুজোর আগে রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে একের পর এক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরা পড়ার পরে চিকিৎসকরাই সতর্ক করছেন, উৎসবের রসনাতৃপ্তির আড়ালে অজান্তেই শরীরে সংক্রমণ ডেকে আনছেন না তো!
পুজোয় বাড়িতে ভূরিভোজ প্রায় সব বাঙালি পরিবারেই দেখা যায়। চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাঙালিয়ানায় মোড়া সেই পঞ্চব্যঞ্জনের ধাক্কায় বদহজম কিংবা কোলেস্টেরল-ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বাড়তে পারে ঠিকই। কিন্তু সেটার চেয়েও বড় বিপদ লুকিয়ে থাকে রাস্তা আর রেস্তোরাঁর খাবারে। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক পুর-অভিযানে বাসি খাবার, অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর এবং খাবার সংরক্ষণে বেনিয়মের মতো বিষয় বেআব্রু হয়ে গিয়েছে। কলকাতা ও জেলায় হাজার দুয়েক দোকান ও রেস্তোরাঁয় পরিদর্শন চালিয়ে খাবার নষ্ট করার পাশাপাশি নোটিস দেওয়া এমনকী, সাময়িক বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও করেছে পুরসভা।
তবে বিপদ এড়াতে যে শুধু প্রশাসনিক নজরদারির উপরে নির্ভর করলে রক্ষা পাওয়া যাবে না, বরং খাবার বাছার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, সেই প্রয়োজনীয় কথাটা মনে করিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। মাইক্রোবায়োলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৌগত ঘোষের কথায়, 'শীত আসতে এখনও দেরি আছে। প্রবল গরম এখন না থাকলেও, যে ভ্যাপসা আবহাওয়া এখন রয়েছে, সেই গরমে খাবারে জীবাণু দ্রুত বাড়ে। তাই খাবার দেখতে টাটকা কিংবা গন্ধে ভালো হলেই তা যে নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই।' তিনি সতর্ক করছেন, দূষিত জল, অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার তৈরি এবং কাঁচা খাবারের সংস্পর্শে রান্না করা খাবার এলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
তাই ফুচকার জল, কাটা ফল, বরফ দেওয়া পানীয় কিংবা খোলা অবস্থায় রাখা চাটজাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে যে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, তা খোলসা করছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাস। তিনি বলেন, 'দূষিত খাবার থেকে ডায়ারিয়া, বমি, পেটব্যথা ও জ্বর হয়ে পুজোর আনন্দ মাটি হতে পারে। বমি ও পাতলা পায়খানার ফলে শরীর থেকে জল এবং প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে গিয়ে ডিহাইড্রেশন শুরু হয়। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দ্রুত গুরুতর হতে পারে।' তাই রাস্তার ধারের দোকানে খাওয়ার সময়ে খাবার ঢাকা রয়েছে কি না, পরিবেশনের পাত্র পরিষ্কার কি না এবং বিক্রেতা খাবার ধরার আগে হাত পরিষ্কার করছেন কি না, তা খেয়াল রাখা জরুরি।
বিবেকমোহন শর্মা কিংবা দিলীপ টোডির মতো গ্যাস্ট্রো-এন্টেরোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, খাওয়ার পরে বমি, ডায়ারিয়াই শুধু নয়, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলেও অবহেলা করবেন না। তাঁদের পরামর্শ— পুজোর আনন্দে রসনাতৃপ্তি চলুক, কিন্তু সাবধানে। তাৎক্ষণিক স্বাদ-তৃপ্তির জন্য স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলা বিচক্ষণতা নয়। তাই পুজোয় বাইরে খাওয়ার সময়ে খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর থাকা জরুরি।