টেলিস্কোপে মহাকাশ দেখা, রোবটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন সম্পর্কে জানা, এমন নানা আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছিল বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠ। পাঠ্যবইয়ের বাইরে হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলা এবং মহাকাশবিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে বরগুনায় অনুষ্ঠিত হলো ষষ্ঠ মহাকাশ ক্যাম্প ২০২৬।
বরগুনা সায়েন্স সোসাইটির (বিএসএস) আয়োজনে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শুরু হওয়া দুই দিনের এ ক্যাম্পের পর্দা নামে মঙ্গলবার রাতে। ড্রোন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। এসময় বরগুনায় বিজ্ঞানচর্চার প্রসার ও বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বরগুনায় বিজ্ঞানচর্চার পরিবেশ সমৃদ্ধ করতে তিনি সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা সায়েন্স সোসাইটি ষষ্ঠবারের মতো এ মহাকাশ ক্যাম্পের আয়োজন করে। প্রতিবছর এ বিজ্ঞান উৎসবে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এবারের আয়োজনেও শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা বিষয় সরাসরি দেখার এবং জানার সুযোগ।
ক্যাম্পে টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ, রোবট প্রদর্শনী, ফোরডি চলচ্চিত্র ও ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান প্রদর্শনীর ব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিজ্ঞানবিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মহাকাশবিজ্ঞান, রোবোটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে জানার সুযোগ পায়।
আরও পড়ুন
ক্যাম্পে দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটি, যশোরের জেসিবি সায়েন্স ক্লাব ও ঢাকার রোবোডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন। তাদের অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়।
এবারের ক্যাম্পের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বরগুনা সায়েন্স সোসাইটির নিজস্ব উদ্ভাবন ‘শূন্য’। এ ছাড়া প্রদর্শিত হয় বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন। বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু বিজ্ঞান সম্পর্কে জানার সুযোগই তৈরি করে না বরং তাদের মধ্যে প্রশ্ন করার আগ্রহ, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনের মানসিকতা গড়ে তুলতেও সহায়তা করে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে বিজ্ঞানকে আনন্দময় ও সহজভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বরগুনা সায়েন্স সোসাইটির সভাপতি আকিল আহমেদ বলেন, এ ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা এবং ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক হওয়ার পথে তাদের উৎসাহিত করা। জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ আরও বাড়বে। এতে বরগুনায় বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠবে এবং নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।
মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লা, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন আর রশিদ রিংকু। এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কুদরত ই খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মহিউদ্দিন অপু/এসএন
