শরতের শেষ ভাগে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে টাঙ্গাইলের মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলার মোট ১ হাজার ৩৫৭টি পূজা মণ্ডপে দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ ফুটিয়ে তুলতে দিনরাত কাজ করে চলেছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
ইতোমধ্যে বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব গড়ার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ ও নিখুঁত কারুকাজ, আবার কোথাও প্রতিমায় দেওয়া হচ্ছে রং ও তুলির শেষ আঁচড়। এরপর সাজসজ্জা শেষে প্রতিমাগুলো নির্দিষ্ট মণ্ডপে স্থানান্তরিত হবে।
আসছে ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর ঘটস্থাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন এবং নৌকায় গমন করবেন।
জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে মধুপুরে ৬০টি, ধনবাড়ীতে ৩৬টি, ঘাটাইলে ৯৪টি, কালিহাতীতে ১৮২টি, গোপালপুরে ৫৭টি, ভূঞাপুরে ৩৪টি, টাঙ্গাইল সদরে ২৩৩টি, নাগরপুরে ১৩৮টি, দেলদুয়ারে ১২৮টি, মির্জাপুরে ২৭০টি, বাসাইলে ৮১টি এবং সখিপুরে ৪৪টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে জেলার সর্ববৃহৎ মণ্ডপ হিসেবে পরিচিত মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ি ও সাহাপাড়া মণ্ডপ, যেখানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ভিজিট করেন।
শহরের শ্রী শ্রী কালীবাড়ি, আদালতপাড়া, থানাপাড়া ও সাবালিয়া এলাকার মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎশিল্পীরা অত্যন্ত নিপুণ হাতে প্রতিমার চোখ ও মুখমণ্ডলের রূপ ফুটিয়ে তুলছেন। কারিগর নিশি কান্ত পাল ও অচিন্ত পাল জানান, কাঁচামালের দাম বাড়লেও প্রতিমা তৈরিতে তাঁদের ব্যস্ততা কমেনি। আকারভেদে প্রতিটি প্রতিমার কাজ সম্পন্ন করতে তাঁরা ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন।
উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অমল ব্যানার্জি জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সাথে ইতিমধ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী দল দায়িত্ব পালন করবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলায় গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেএইচআর
