‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিতে যারা বিশ্বাস করে না, তারা দেশবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গোয়েন্দাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে যে, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সীমান্তর ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে এবং দেশের ভেতরে থাকা একটি দল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা এক হয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে বাধাগ্রস্ত করতে কেউ যেন নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য আজ থেকে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি বিগত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে ঢাকায় ওসমানী উদ্যানে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি সবসময় শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের পাশে রয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোমবার ঢাকায় শহীদ স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২৪-এর চেতনা ধারণের কথা মুখে বললেও নামসর্বস্ব বিভিন্ন দলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। একাত্তরে যারা জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, তারাই এখন জুলাই আন্দোলনকেও ধোঁকা দিচ্ছে। তাদের মুখে এক কথা আর কর্মে অন্য প্রতিফলন দেখা যায়। এ দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি শান্তিতে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায় বলে তিনি যোগ করেন।
রাজশাহী অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে এবং কৃষক ভাইদের কল্যাণে রাজশাহীর পদ্মা নদী ও উত্তরের তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। পানির প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে প্রয়োজনে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
