শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার কারণে অনেক নারী বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রজননস্বাস্থ্যে কিছু পরিবর্তন আসে, যা গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নতুন সম্পর্কে মানিয়ে নেওয়া, জীবনযাপনের অভ্যাসের সমন্বয় এবং শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়েও কারও কারও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো সম্পর্কেও সচেতন থাকা জরুরি।
গর্ভধারণে বয়সের প্রভাব
নারীদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সের পর প্রজননক্ষমতা হ্রাসের প্রভাব তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হয়। ফলে গর্ভধারণে বেশি সময় লাগতে পারে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বয়স বাড়লে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এবং কিছু ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বেশি বয়সে বিয়ে করলেই এসব জটিলতা দেখা দেবে। ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন ও চিকিৎসাসেবার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
আধুনিক চিকিৎসায় ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এসব পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে সফল হয় না। ডিম্বাণু সংরক্ষণও ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানের নিশ্চয়তা দেয় না।
দাম্পত্য জীবনে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘদিন নিজের মতো করে জীবনযাপনের পর নতুন একজন মানুষের সঙ্গে সংসার শুরু করলে অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য সামনে আসতে পারে। জীবনযাপনের ধরন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিগত সময় কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে এসব সমস্যা শুধু দেরিতে বিয়ের কারণে হয় না। কম বয়সেও দাম্পত্য সম্পর্কে এমন জটিলতা দেখা দিতে পারে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, খোলামেলা আলোচনা, দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সম্পর্ককে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
হরমোনের পরিবর্তন ও যৌনস্বাস্থ্য
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের হরমোনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। বিশেষ করে পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় যোনিপথের শুষ্কতা, যৌন আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা কিংবা শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব কারণে কারও কারও যৌনজীবনে প্রভাব পড়তে পারে।
তবে বয়স বাড়লেই যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ব্যক্তিভেদে অভিজ্ঞতা ভিন্ন হয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ, উপযুক্ত চিকিৎসা ও সঙ্গীর সহযোগিতার মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, স্বাভাবিকভাবে মেনোপজ সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে। ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে মেনোপজ শুরু হতে পারে, তবে তা সবার ক্ষেত্রে হয় না। ৪০ বছরের আগে মেনোপজ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যা বিবেচনা করবেন
বিয়ে জীবনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সামাজিক চাপ বা নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে বিয়ে করার তাগিদে তাড়াহুড়া না করে নিজের মানসিক প্রস্তুতি, পছন্দ, জীবনলক্ষ্য ও সম্পর্কের সামঞ্জস্য বিবেচনা করা উচিত।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বয়স ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আগেভাগে আলোচনা করা যেতে পারে। অনিয়মিত মাসিক, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হওয়া কিংবা প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দেরিতে বিয়ের কিছু স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, তবে এর পাশাপাশি মানসিক পরিপক্বতা, আত্মনির্ভরতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মতো সুবিধাও থাকতে পারে। তাই বিয়ের সময় নির্ধারণে বয়সকে একমাত্র মাপকাঠি না করে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য ও প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
এমএ
