Published on
:
2 min read
রাঁধুনি থেকে শেফ — একটা জার্নি। সেই জার্নিটা উপভোগ করেছেন তিনি। রান্নাও যে শিল্প, বুঝিয়েছেন নিজের জীবন দিয়ে। শেষ পর্যন্ত রবিবার ৭২ বছর বয়সে চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় রন্ধনশিল্পী দামোদরন কোথানদারমন। গোটা দেশে অবশ্য তিনি ‘শেফ দামু’ হিসেবেই পরিচিত।
দামু নিছক শেফ ছিলেন না। তিনি একাধারে লেখক এবং শিক্ষকও। দেশীয় শেফদের মধ্যে তিনিই প্রথম হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও ক্যাটারিং টেকনোলজিতে পিএইচডি করেছিলেন। এটা আজও ইতিহাস। ২০১০-এ গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠে তাঁর। মাত্র ২৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ১২ সেকেন্ডে রেঁধেছিলেন ৬১৭টি পদ। গত বছর (২০২৫) তাঁকে পদ্মশ্রীতে ভূষিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
১৯৫৪-র ৩ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুতে জন্ম দামুর। মা কোথাইনায়াগিই তাঁর অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকে চাইতেন, মা যেমন জিভে জল আনা সব পদ রান্না করেন, তিনিও তেমন বানাবেন। তবে কোথাইনায়াগি মোটেই চাইতেন না, ছেলে শেফ হোক। কিন্তু বিধি বাম।
নাম করা রাধুঁনি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দক্ষিণ ভারত থেকে চলে আসেন আসেন দামু। কিন্তু বাণিজ্য নগরীতে এসে অথৈ জলে পড়েন। দিনের পর দিন রেলস্টেশনে রাত কাটিয়েছেন। পেট চালাতে ছোটখাটো কাজও করতে হয়েছে। কিন্তু স্বপ্নটা ছাড়েননি। শেষ তাজ হোটেলে শিক্ষনবিশ হিসেবে কাজের সুযোগ পান। তবে প্রথমেই কড়াই-খুন্তি হাতে পাননি। বরং কুটনো কুটেছেন, বাসন মেজেছেন, সামলেছেন রান্নাঘরের যাবতীয় খুঁটিনাটি কাজ।
প্রশিক্ষণ শেষে হোটেল ম্যানেজমেন্টের শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন দামু। বই লেখেন। ধীরে ধীরে পরিচিতি হতে থাকে। ২০১৯-এর ১৬ নভেম্বর স্টার বিজয় টিভিতে শুরু হয় রান্নার রিয়্যালিটি শো ‘কুক উইথ কোমালি’। অনুষ্ঠানের অন্যতম বিচারকের দায়িত্ব পান দামু। ব্যস, আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। গোটা দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে যান তিনি।
দামুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শেফ সীতারাম প্রসাদ। নিঃশব্দে কত ছেলেমেয়ের পাশেই যে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন সেই কথাই মনে পড়ছে তাঁর। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে তিনি বলেন, ‘এই পেশায় আসার পরে অনেক তরুণই শুরুতে কিছু বুঝে উঠতে পারেন না। লেখাপড়া ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেন। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেন দামু।’ মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সহজসরল। কিন্তু রসবোধ ছিল প্রবল। অনেকে মনে করেন, এটাই ছিল শেফ দামুর ইউএসপি।
