বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সাংবাদিক, সম্পাদক, মালিক ও নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে গণমাধ্যম সংস্কারের যে সুপারিশ তৈরি হয়েছে, তার বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে সেগুলোর সঠিক ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। আংশিক পদক্ষেপে সংবাদমাধ্যমের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সংস্কারের পাশাপাশি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা জরুরি, যেখানে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাগত মান, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং ভুল বা অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ঢাকার বাইরের সংবাদকক্ষগুলোর বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতাকেও আলোচনায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে রোববার (২৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামে গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চতুর্থ বিভাগীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে এমআরডিআই। এতে বিভাগের বিভিন্ন জেলার সংবাদমাধ্যমের মালিক ও প্রকাশক, সম্পাদক, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থা ও উত্তরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় মূল উপস্থাপনা করেন এমআরডিআই-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে অংশ নেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান ও দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ এবং চ্যানেল এস-এর পরিচালক ও নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স রেজোয়ানুল হক রাজা। বক্তারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় জবাবদিহি ও স্ব-নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, এমআরডিআই-এর এই অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমটি কানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভস (সিএফএলআই)-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে আয়োজিত হয়েছে, যার অর্থায়ন করেছে কানাডিয়ান হাইকমিশন বাংলাদেশ।
