দিনাজপুরে ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩০ এএম
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা ছবি: খবরের কাগজ
-->দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে নতুন আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বীজ রোপণ ও খেত পরিচর্যায় নেমেছেন তারা। ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই জেলায় ৪৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর। ইতোমধ্যে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ রোপণ করেছেন কৃষকরা।
উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা আশ্বিন মাসের শেষ দিকে স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কেটে জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ শুরু করেছেন। এবার আগাম জাতের আলু চাষে কৃষকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অনেক কৃষকের আলুর বীজ রোপণের ১০ থেকে ১২ দিন পার হয়েছে। এসব জমিতে আলুর গাছও উঠতে শুরু করেছে। গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দিয়ে পরিচর্যা করছেন চাষিরা। তাদের আশা, অগ্রহায়ণের শুরুতেই নতুন আলু ঘরে তুলে নবান্ন উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।
তবে আগাম আলু চাষে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন কৃষকরা। দিনাজপুর সদর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আলুর বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি–সবকিছুর দাম বেড়েছে। ফলে এবার চাষাবাদে আগের তুলনায় বেশি খরচ হচ্ছে। তার পরও আগাম আলু চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে আলু চাষের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। জমি চাষ, সার প্রয়োগ, হিমাগার থেকে বীজ সংগ্রহ, রোপণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের।
বীরগঞ্জ উপজেলার মাহানপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, তিনি ও এলাকার অন্য কৃষকরা প্রস্তুত করা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করছেন। এবার তারা অ্যাস্টেরিক ও কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক মো. মাহামুদ আলীও আগাম আলু চাষে জমির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। গত বছর সাড়ে আট বিঘা জমিতে আলু চাষ করলেও এবার করছেন ১২ বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, এবার উৎপাদিত আলুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। তবে বীজের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
জেলার একাধিক কৃষক জানান, প্রতিবছর বাড়তি মুনাফার আশায় অনেকেই আগাম জাতের আলু চাষ করেন। এবার বীজের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও লাভের আশায় হিমাগার থেকে বীজ কিনে জমিতে রোপণ করছেন তারা।
সদর উপজেলার সদরপুর গ্রামের আলুচাষি মো. শহিদুর রহমানের ১০ বিঘা জমিতে অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপণ করেছেন শ্রমিকরা। তাদের একজন জানান, এক বেলা খাবারসহ প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন তারা। এ আয় দিয়েই সংসার চালাতে হয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, সদর, বীরগঞ্জ, খানসামা, বিরল, চিরিরবন্দরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আলুর চাষ ও উৎপাদন বেশি হয়। আগাম জাতের আলু তুলে একই জমিতে রবি মৌসুমের বিভিন্ন শাকসবজি চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকরা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারছেন। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে উঁচু জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন করছেন অনেকে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি লাল পাকরি জাতের আলুর বীজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং কার্ডিনাল জাতের বীজ ২৮ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিরল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উঁচু জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল, লাল পাকরি, রোমানা ও ডায়মন্ড জাতের আলু রোপণের ৫৫ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। সঠিক নিয়মে জমির পরিচর্যা করতে পারলে এসব জাতের আলু থেকে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলক কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে আগাম আলু চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলের উৎপাদিত আলুর অর্ধেকেরও বেশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা হয়। চলতি বছরও এ উৎপাদনধারা অব্যাহত রাখতে কৃষকদের আলু চাষে উৎসাহিত করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন
রূপালী-জনতা-সোনালী ব্যাংকের এমডির চুক্তি বাতিল
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
রূপালী, জনতা ও সোনালী ব্যাংকের এমডি। ছবি: সংগৃহীত
-->রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী, জনতা ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বাকি মেয়াদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
২০২৪ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব পাওয়া এ তিনজনের চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করে আলাদা চিঠি জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন- রূপালী ব্যাংকের কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, জনতা ব্যাংকের মজিবুর রহমান ও সোনালী ব্যাংকের শওকত আলী খান।
এর আগে, বেসিক ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অবশিষ্ট মেয়াদের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। তখন থেকে ব্যাংক দুটি ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়ে চলছে। এ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য হলো।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অনুযায়ী মো. মজিবর রহমানের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ ও সম্মতি দেয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকা মজিবর রহমানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
আরেক প্রজ্ঞাপন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলেছে, রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের জন্য সরকারের সুপারিশ বা সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।
এ-সংক্রান্ত চিঠি রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল হুদার কাছে পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াহিদুল ইসলামকে সোনালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।
আরেক আদেশে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তাকে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় তিন বছরের জন্য। সোনালী ব্যাংকে নিয়ে আসার আগে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
রিফাত/
আরও পড়ুন
লেনদেনের খরায় পুঁজিবাজার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ এএম
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স
-->দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। লেনদেন কমতে কমতে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। ফলে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের হতাশাও বাড়ছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লেখানোর পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস ডিএসইতে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরে থাকল। চলতি বছরে দুই কার্যদিবস লেনদেন ৩০০ কোটির ঘরে আটকে থাকার ঘটনা ঘটল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান নাম লিখিয়েছে। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। তবে বাজারটিতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আধাঘণ্টার বেশি সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকেনি। বরং প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেন পার হওয়ার পর লেনদেনের পুরো সময় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার প্রবণতা চলতে থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া দুই কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হলো।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ২১৭ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এ ছাড়া ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ১০৫টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। ৫৬টির দাম কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৫৬টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া একটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৮টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। তবে লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরেই রয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সোনালী আঁশের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। ১২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, পূবালী ব্যাংক, সায়হাম টেক্সটাইল, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ৭২টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৬ পয়েন্ট।
আরও পড়ুন
যে কারণে আজ সারা দেশে স্বর্ণ বেচাকেনা বন্ধ
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সব জুয়েলারি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফলে সারা দেশে আজ স্বর্ণের স্বাভাবিক বেচাকেনা বন্ধ থাকবে। এর আগে রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে মহাষ্টমী উপলক্ষে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্বর্ণের কারিগরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজুসের এ সিদ্ধান্তের ফলে আজ দেশের কোথাও স্বর্ণের দোকানে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলবে না। তাই স্বর্ণ কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে ক্রেতাদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে মহাষ্টমীর ছুটি শেষে কবে থেকে স্বর্ণের দোকানগুলোতে স্বাভাবিক বেচাকেনা শুরু হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
অন্তরা/
আরও পড়ুন
দিনাজপুরে কেঁচো সারে নাঈমের আয় লাখ টাকা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ এএম
দিনাজপুরের ভুসির বন্দরের ভার্মি কম্পোস্ট কারখানায় নাঈম হুদা কাজে ব্যস্ত। ছবি: খবরের কাগজ
-->ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে চাকরি শুরু করেছিলেন নাঈম হুদা। চাকরি করেই চলছিল সংসার। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপর করোনাকালে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ কমে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েন। একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে পরিবারের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার চাপ–সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয় তাকে।
তবু হাল ছাড়েননি। স্ত্রীর দেওয়া স্বর্ণের আঙটি বিক্রি করে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদনের উদ্যোগ। পরপর দুই দফা ব্যর্থ হয়েও থেমে যাননি।
নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপ বিক্রি করে আবারও শুরু করেন। সেই উদ্যোগই এখন তার আয়ের অন্যতম উৎস। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গড়ে তোলা খামারে প্রতি মাসে উৎপাদন করছেন ৮ থেকে ১০ টন ভার্মি কম্পোস্ট সার। কর্মসংস্থান হয়েছে ৮ থেকে ১০ জনের। তাদের মধ্যে রয়েছেন হযরত আলী, সাদিকুল ইসলাম ও মরিয়ম বেগম।
নাঈমের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। নিজের ফল ও সবজিবাগানের জন্য জৈব সারের প্রয়োজন থেকেই কেঁচো সার উৎপাদনের চিন্তা আসে তার মাথায়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুর থেকে ১০ কেজি কেঁচো কিনে আনেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথমবারই বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির পানি জমে কেঁচো মারা যাওয়ায় ব্যর্থ হন তিনি। পরে বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা ধার করে আবারও ১০ কেজি কেঁচো কিনে আনেন। কিন্তু সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকায় দ্বিতীয়বারও সফল হতে পারেননি।
পরপর দুই দফা ব্যর্থ হয়ে হতাশ হয়ে পড়লেও কৃষিতে কিছু করার স্বপ্ন ছাড়েননি নাঈম। পরিবারের পক্ষ থেকে চাকরিতে ফিরে যাওয়ার চাপ থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
শেষ পর্যন্ত ব্যবহৃত ল্যাপটপটি এক বন্ধুর কাছে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আবারও কেঁচো কেনেন। এবার খামারে ছাউনি তৈরি করে গোবরের নির্দিষ্ট স্তরে কেঁচো ছাড়েন। প্রায় ১৫ দিন পর উৎপাদন শুরু হয় ভার্মি কম্পোস্টের। নিজের বাগানে ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের কাছে সার বিক্রি শুরু করেন। কৃষকরা জমিতে এ সার ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়ার কথা জানালে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে চাহিদা।
দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার বৈকণ্ঠপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে নাঈম হুদা। উপজেলার ভুসির বন্দর বাজারসংলগ্ন পুকুর ধারে এই ভার্মি কম্পোস্ট বা কিছু সারের কারখানা তৈরি করেছেন নাঈম হুদা।
বর্তমানে ৫ থেকে ৬ শতক জমিতে গড়ে তোলা খামার থেকে মাসে ৮ থেকে ১০ টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করছেন নাঈম। পাইকারিতে প্রতি টন ১৩ হাজার টাকা দরে সার বিক্রি করেন তিনি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ১৬ থেকে ১৮ টাকা। ফল ও সবজিচাষে ব্যবহারের পাশাপাশি পুকুরের মাছের খাদ্য হিসেবেও এ সার ব্যবহার করা হচ্ছে। খামারের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে নিয়মিত কাজ করছেন ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক।
খামারে প্রতিদিন কাজ করেন হযরত আলী। কেঁচো সার উৎপাদন, গোবর প্রস্তুত ও খামারের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থেকে তিনি নিয়মিত আয় করছেন। হযরত আলী বলেন, এ খামারে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তার কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন কাজ করে আয় করতে পারছেন, যা তার সংসার চালাতে সহায়তা করছে। নিয়মিত কাজের সুযোগ থাকায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন।
একই খামারে কাজ করেন সাদিকুল ইসলাম। কেঁচো সার তৈরির বিভিন্ন ধাপে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। সাদিকুল ইসলাম বলেন, খামারে কাজ করে নিয়মিত উপার্জনের সুযোগ হয়েছে তার। আগে কাজের নিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তা থাকলেও এখন প্রতিদিন কাজ করার মাধ্যমে সংসারের খরচ মেটাতে পারছেন। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বড় হলে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
খামারের আরেক কর্মী মরিয়ম বেগম। তিনিও প্রতিদিনের কাজে অংশ নিয়ে আয় করছেন। মরিয়ম বেগম বলেন, এ খামারে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় তার কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। নিয়মিত কাজ করে নিজের আয় করতে পারছেন এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করছেন। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাদের মতো মানুষের উপকার হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক রতন কুমার মহন্ত বলেন, ‘আমি এখন ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে জমির উৎপাদন অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই আমি এখন রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করে ভার্মি কম্পোস্ট সার, বিশেষ করে নাঈম হুদার খামার থেকেই ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করে জমিতে দিচ্ছি। ফসল ভালো হচ্ছে। পানির সেচ কম লাগে। ফসল অনেক ভালো হয়। তাই আমি এখন জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছি।’
স্থানীয় কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে ফসলের ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের তুলনায় খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে কেঁচো সারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
উদ্যোক্তা নাঈম হুদা বলেন, নিজের বাগানের জন্য সার তৈরি করতে গিয়ে তার এই উদ্যোগের শুরু। প্রথম দিকে বারবার ব্যর্থ হলেও চেষ্টা বন্ধ করেননি। এখন নিজের খামারে উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজে উৎসাহিত করছেন। তার লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা, যাতে বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পান।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহুরা সুলতানা বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং মাটির গুণাগুণ উন্নত করতে সহায়তা করে। সুষম সার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এ ধরনের জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। নাঈম হুদার মতো উদ্যোক্তাদের সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও কেঁচো সার উৎপাদনের আগ্রহ বাড়ছে।
