ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ৯ দিন আগে মিত্র বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আগামী সপ্তাহের সংসদীয় নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য লড়াই করছেন।
ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ ও শান্তির অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সাত মাস ধরে চলমান এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে; যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, “বিবি নেতানিয়াহু প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখেও—এমনকি খোদ ইসরায়েলের ভেতর থেকে আসা বিরোধিতার মুখেও—দৃঢ়, সাহসী এবং অত্যন্ত মেধার পরিচয় দিয়েছেন। এত কিছুর পরেও তিনি টিকে থেকেছেন, বরং আরো সফল হয়েছেন! আমি বিবিকে অত্যন্ত কঠিন সময়ে দেখেছি। সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে চাপের মুখে ভেঙে পড়ত—কিন্তু বিবি ভেঙে পড়েননি; বরং তিনি আরো শক্তিশালী হয়েছেন এবং আজও সেই একই শক্তি বজায় রেখেছেন।”
ইসরায়েলের ‘মহান জনগণের’ উদ্দেশ্যে লেখা বার্তায় ট্রাম্প আরো বলেন, “এই চিঠিটির মাধ্যমে আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে বিবি নেতানিয়াহুকে আমার পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন জানাচ্ছি।”
ট্রাম্পের সমর্থন যে ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থী লিকুদ পার্টিকে বাড়তি সুবিধা দেবেই, তা নিশ্চিত নয়; কারণ ইরান ইস্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্যের জেরে ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন হ্রাস পেয়েছে।
জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, কোনো প্রার্থীরই ক্ষমতায় যাওয়ার সুনিশ্চিত পথ নেই। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না, বরং পার্লামেন্টে জোট গঠনের মাধ্যমে নির্ধারিত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই হামলা পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েল গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে যে, ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল সময়ের পরও নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, নাকি নতুন যুগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে পরাজিত হবেন।
