লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায় শেষ হয়েছে গত সপ্তাহে। কিন্তু যে আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরে ভক্ত-সমর্থকদের মনে রাখার মতো এত সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, সেটা নিয়ে গল্প এত সহজে শেষ হওয়ার নয়। আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলারের দীর্ঘদিনের বন্ধু-সতীর্থ লুইস সুয়ারেস তা আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন।
মনুমেন্তালে গত ৭ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনা অধ্যায় শেষ হয় মেসির। দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্ক শেষে বিদায়ী ভাষণে তাঁর গলাটা ধরে এসেছিল। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী ফুটবলারের চোখ দিয়ে ঝরছিল পানি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর মেসি প্রথম ম্যাচ খেলেন ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে। ইন্টার মায়ামির ৪-০ গোলে জয়ের পর দীর্ঘদিনের বন্ধু সুয়ারেস বলেন, ‘জাতীয় দল ছাড়ার সময় সে কতটা বিষণ্ন ছিল, তা সবাই দেখেছেন।’
২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২৪ কোপা আমেরিকা—আর্জেন্টিনার জার্সিতে চার শিরোপা জিতেছেন মেসি। একের পর এক গোলে ওলটপালট করেছেন রেকর্ড বইয়ের পাতা। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুই বিশ্বকাপে জেতেন গোল্ডেন বলের পুরস্কার। ২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপে রানার্সআপ ফুটবলার হিসেবে গোল্ডেন বল জিতলেও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি ঘুচিয়েছেন অপূর্ণতা।
বেনিনের বিপক্ষে যে ম্যাচটা গত সপ্তাহে আগে থেকেই মেসিময় হয়ে ওঠে, মাঠের পারফরম্যান্সেও সেটা ধরে রেখেছেন তিনি। বেনিনের বিপক্ষে তিনটি গোলেই অবদান রেখেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী ফুটবলার। এক গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। সুয়ারেস গত পরশু ডিসি ইউনাইটেডকে হারানোর পর বলেন, ‘একই সঙ্গে তার মনে এই প্রশান্তি ও গর্বও ছিল যে সে নিজের সর্বস্ব দিয়েছে। নিজের সবটুকু দিতে পেরে গর্বিত সে।’
আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই গত ৭ অক্টোবর মনুমেন্তালে মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতি ঘটল। দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামে বিদায়ী ভাষণে তিনি যখন কিছু বলতে যান, দর্শকেরা উল্লসিত হয়ে ওঠেন। তবে মেসি শুরুটা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগ সামলে বিদায়ী ভাষণ যতক্ষণ দিয়েছেন, তাঁর মতো সবাই চাচ্ছিলেন যেন সেই মুহূর্ত কখনো শেষ না হয়। ২০২২ বিশ্বজয়ী ফুটবলার আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলতে পারা নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করেন।
আর্জেন্টিনা অধ্যায় শেষে মেসি ইন্টার মায়ামির জার্সিতে যে ম্যাচ খেলেন, সেই ম্যাচে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতে তাঁর দল। মেসি-সুয়ারেস উভয়ই জোড়া গোল করেন। বার্সেলোনায় এক সময় তাঁরা ছিলেন সতীর্থ। ইন্টার মায়ামিতে এসেও জুটি বেঁধেছেন তাঁরা।
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ২০৮ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। দলটির জার্সিতে সর্বোচ্চ ১২৬ গোলও তাঁর। যার মধ্যে বিশ্বকাপে করেছেন ২১ গোল। এই ২১ গোলের আটটিই এসেছে এ বছরের জুন-জুলাইয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে। অ্যাসিস্ট করেন ৪ গোলে। ইন্টার মায়ামির হয়ে ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১১৮ ম্যাচে করেন ১০৪ গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন ৫৮ গোলে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির জার্সিতে জিতেছেন চার শিরোপা।
