জাককানইবিতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় তদন্ত কমিটি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে টুর্নামেন্টের বাউন্ডারির ভেতরে বল যাওয়া নিয়ে মারামারির সূত্রপাত হয়। এ সময় সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসানের স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে- বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলামকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ সুখন), অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুক এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার।
আরও পড়ুন
তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ এবং সাংবাদিককে হেনস্তা কোনোটিই কাম্য নয়। ঘটনাকে ঘিরে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন
উল্লেখ্য, নজরুল প্রিমিয়ার লিগ চলাকালে মাঠের বাউন্ডারির ভেতরে বল যাওয়া নিয়ে আয়োজক কমিটি ও ফুটবল খেলতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে খেলা শেষে বিষয়টি মীমাংসার সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এরই জের ধরে বুধবার রাতে অগ্নিবীণা হল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও কলা ভবনের সামনে আয়োজক কমিটির সদস্যদের মারধর করেন ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে কলা ভবনের সামনে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে আয়োজক কমিটির এক সদস্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত ছয় শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় আরটিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবু তাহেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
মো. তাসনিম/রিফাত/
আরও পড়ুন
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি-মালয়েশিয়ার ইউএসআইএমের সমঝোতা চুক্তি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (ইইউবি) এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়া (ইউএসআইএম) একটি লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা ও যৌথ একাডেমিক কার্যক্রমের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এ সমঝোতা দলিলে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী এবং ইউএসআইএমের ফ্যাকাল্টি অব লিডারশিপ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুশদান মোহাম্মদ জাইলানি। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় ইউএসআইএমের অ্যাম্বাসেডর অধ্যাপক ড. মো. ইউসুফ আলী, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা, গবেষণা অনুদান সংগ্রহ, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা তত্ত্বাবধান এবং যৌথ গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে কাজ করতে পারবে। পাশাপাশি সেমিনার, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক সেবামূলক কার্যক্রমেও যৌথভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
স্বাক্ষরিত লেটার অব ইনটেন্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রাথমিক পদক্ষেপ। প্রস্তাবিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের জন্য পারস্পরিক আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে পৃথক চুক্তি করা হবে।
আরও পড়ুন
এ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদার, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি/
আরও পড়ুন
টেক্সটাইল শিল্পের সমস্যা সমাধানে আইএসইউতে ‘ক্যাসকেড ২০২৬’
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->টেক্সটাইল শিল্পের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটিতে (আইএসইউ) অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা ‘ক্যাসকেড ২০২৬’। আইএসইউ টেক্সটাইল ক্লাব ও আইএসইউ বিজনেস ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘টেক্সটাইল শিল্পের সমস্যা থেকে ব্যবসায়িক সমাধান’।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ল্যাবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় ছয়টি দল। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. একরামুল হক এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী।
গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিয়ন্ড দ্য কেস, দ্য চ্যালেঞ্জার্স, ইরর অ্যান্ড থ্রেড, দ্য হান্টার্স, টেক্সস্পায়ার ও ইলেকট্রনস। দলগুলো টেক্সটাইল শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সমাধান, ব্যবসায়িক কৌশল ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।
আরও পড়ুন
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে টেক্সস্পায়ার, দ্বিতীয় হয় বিয়ন্ড দ্য কেস এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে দ্য চ্যালেঞ্জার্স। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে সনদ ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।
অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক কৌশল প্রণয়নের সুযোগ পায়। এতে শিল্পখাতের সমস্যা চিহ্নিত করা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কার্যকর সমাধান তৈরির ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা বাড়ে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল চিন্তা, নতুন ধারণা ও দক্ষতা উপস্থাপনের মাধ্যমে মুগ্ধ করেছে। বাস্তব সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা যেভাবে কার্যকর ব্যবসায়িক সমাধান তুলে ধরেছে, তা প্রশংসনীয়। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা, দলগত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিল্পখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
প্রতিযোগিতায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মুহম্মদ কামরুজ্জামান, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ফায়জুল্লাহ কৌশিক, সহকারী অধ্যাপক ফারজানা চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক শামীমা সিদ্দিকা, প্রভাষক মো. হাসিবুল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
আয়োজকদের মতে, ‘ক্যাসকেড ২০২৬’-এর মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে। একই সঙ্গে সমস্যা বিশ্লেষণ, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি দেশের টেক্সটাইল ও ব্যবসায়িক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।
বিজ্ঞপ্তি/
আরও পড়ুন
জাককানইবিতে উন্নয়নের নামে বৃক্ষনিধন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ ঘিরে গাছ কাটা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ
-->উন্নয়নের অংশ হিসেবে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাছ রক্ষায় মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও গাছ কাটার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, উন্নয়নের প্রয়োজনে গাছ কাটতে হলে তা করা হবে। এটার বিকল্প নেই। পাশাপাশি নতুন করে গাছও লাগানো হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম গেট থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সড়কটির প্রস্থ ১৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৪৫ ফুট করা হচ্ছে। উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে তাই সড়কের দুই পাশের গাছ অপসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সড়কটি শুধু যাতায়াতের পথ নয়, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছে স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। সড়কের দুই পাশে থাকা জারুল, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে তাদের। বসন্তে ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে ওঠা এই সড়ক ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আড্ডা, অবসর ও নানা আয়োজনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন হলেও এর জন্য ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত গাছগুলো নির্বিচারে হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘ক্লাস শেষে ক্লান্ত বিকেলে গাছের ছায়ায় হাঁটা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, নিরিবিলি বিকেলে একা পথচলা, বৃষ্টিতে ভেজা মুহূর্ত, ফুলের সৌরভ আর নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম ক্যাম্পাস পরিচয়–এই পথ অসংখ্য গল্পের নীরব সাক্ষী। উন্নয়ন হোক, কিন্তু সেই উন্নয়নের ছোঁয়ায় যেন ক্যাম্পাসের সবুজ সৌন্দর্য ও স্মৃতির এই ঠিকানাটি হারিয়ে না যায়।’
আর্থ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘ফাস্ট গেট থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ পর্যন্ত রাস্তাটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সুন্দর ও স্মৃতিবিজড়িত স্থান। সোনালু, জারুল ও কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অসংখ্য স্মৃতি ও আবেগ জড়িয়ে আছে। উন্নয়নের নামে ১৫-১৬ বছরের পুরোনো এসব গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সেই আবেগে আঘাত করবে। তাই উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনুভূতিকে বিবেচনায় নিয়ে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাই।’
আরও পড়ুন
নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও গ্রিন ক্যাম্পাসের উপদেষ্টা রাতুল মুন্সি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে গেলে এই রাস্তায় হাঁটতে পারি না, কষ্ট হয়। পরিকল্পনার অভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বারবার গাছ ধ্বংস করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন লাগানো ফিস্টেল পামগুলো ছায়া বা ফল দেবে না, বসন্তে জারুল-সোনালুর সেই সৌন্দর্যও থাকবে না। সমাবর্তনে সাবেক শিক্ষার্থীরা স্মৃতিবিজড়িত গাছের সঙ্গে ছবি তোলেন, কিন্তু আমাদের সেই স্মৃতিগুলোই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন হোক, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি ও স্মৃতি ধ্বংস করে নয়।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাস্তা সম্প্রসারণের জন্যই নতুন করে নির্মাণকাজ চলছে। উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১৫ ফুটের রাস্তাটি ৪৫ ফুটে সম্প্রসারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো নকশায় কাজ করার সুযোগ নেই। উন্নয়নের প্রয়োজনে গাছ কাটতে হলে তা করা হবে। তবে প্রয়োজনে গাছগুলো অন্যত্র প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে, পাশাপাশি নতুন করে গাছও লাগানো হবে।’
আরও পড়ুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৬
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) নজরুল টি-১০ ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগ চলাকালীন সময়ে অন্য গ্রুপের বল সীমানায় আসার সূত্র ধরে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) টুর্নামেন্ট চলার সময় ঘটনার সূত্রপাত হয়।
টুর্নামেন্ট চলাকালীনই সেখানে এক দফা কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খেলার মাঠে, অগ্নিবীণা হলের সামনে, কলা ভবনের সামনে এবং পেছনে ৪ দফায় সংঘর্ষ হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। আহত ৬ শিক্ষার্থীর চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও দুইজনকেও নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নজরুল প্রিমিয়ার লীগ চলাকালে খেলার মাঠের বাউন্ডারির ভেতরে বল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও বাউন্ডারির কাছে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও গালিগালাজ হয়। পরে খেলা শেষ হওয়ার পর বিরোধ মীমাংসায় দুই পক্ষ একসঙ্গে হলে আবারও বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির শুরু হয়। এখানে ইংরেজি ও ভাষা সাহিত্য বিভাগের ১৬ ব্যাচের শুভকে ২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, এরই প্রতিশোধ নিতে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সিফাত, নাসিম ও আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে মাঠে ফুটবল খেলতে আসা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে হামলাকারীরা কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।
আরও পড়ুন
পরে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী কলা ভবনের সামনে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায় এবং কলা ভবনে অবস্থান নিয়ে থাকা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের গ্রুপটি পালিয়ে যায়। পরে তাদের খুঁজতে গিয়ে কলা ভবনের পেছনে ৩ জনকে পেলে তাদের রড, স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার সঙ্গেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন অভিযুক্তরা।
এসময় এই মারধরের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিভির প্রতিনিধি আবু তাহেরের উপরও চড়াও হয় শিক্ষার্থীরা। এসময় তার ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ডিলিট, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় হামলাকারীরা। প্রাথমিকভাবে শনাক্তকৃত হুমকি প্রদানকারী অভিযুক্তরা হলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের আব্দুল কাদির জিলানী, রায়হান আহমেদ, হোসাইন চৌধুরী, দিদারুল, মাছুদ রানা মবিন ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের রায়হান তালুকদার। এছাড়া অশনাক্তকৃত রয়েছে আরও ২ জন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
পরবর্তীতে সেখান থেকে আহত ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর পক্ষের দিদারুল ইসলাম আঘাত পেয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন এবং সিফাত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানা যায়।
ঘটনার পর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ৬ জন আহত বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলতে পারব।
মো. তাসনিম হক রাফি/এসএন
