প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে গত নয় মাসে অন্তত ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। অপতথ্য ও অপপ্রচারের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।
রিউমার স্ক্যানারের প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক ও অন্যান্য প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রিউমার স্ক্যানার জানায়, গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার কমছে না, বরং বাড়ছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে ছড়ানো ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক অপতথ্য। মোট শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশ ছিল রাজনৈতিক অপতথ্য। সব মিলিয়ে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে ছড়ানো ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জড়ানো হয়েছে বিএনপিকে। দলটি, এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের ঘিরে এ সময়ে ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এসব অপতথ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।
রিউমার স্ক্যানারের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অপতথ্যসংবলিত কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়ানো অপতথ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল তাঁর জন্য নেতিবাচক।
এদিকে বিএনপি সরকারকে জড়িয়ে ৪৯১টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মিত অপতথ্যের শিকার হচ্ছেন।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সরকার, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের জড়িয়ে ১৮৬টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। এর আগের দুই প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ৩০৫। সব মিলিয়ে, প্রথম তিন প্রান্তিকে বিএনপি সরকারকে জড়িয়ে ৪৯১টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অপতথ্যের প্রায় সাড়ে ৯২ শতাংশই ছিল সরকারের জন্য নেতিবাচক।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে গণমাধ্যমের নাম, লোগো ও শিরোনাম ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল।
রিউমার স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশে গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে রিউমার স্ক্যানার।
