নিজস্ব প্রতিবেদক । চট্টগ্রামনিউজ.কম
কক্সবাজারে ছুটি কাটাতে গিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির মুখে পড়েছেন মো. আশিকুল ইসলাম। উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে আগুনে পুড়ে তার পরিবারের ছয় সদস্যসহ এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদের (৫) পরিচয় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা সবাই পর্যটক। নিহত বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে পরিবারের ১০ সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন আশিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে তাঁরা উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন।
আহত অবস্থায় আশিকুলের মামা-শ্বশুর মাসুদ ও তার স্ত্রী মিলাকে আগুন থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
আশিকুলের এক স্বজন সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার পর আশিকুল দোতলা থেকে লাফ দেন। এতে তিনি বেঁচে যান।
অগ্নিকাণ্ডের শিকার রিসোর্টটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পাটুয়ারটেক এলাকায় কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন-ড্রাইভ সড়কের ওপর অবস্থিত। দুই তলা কাঠামোটির একপাশে ইটের পাকা দেয়াল এবং বাকিটা কাঁঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি।
আজ শনিবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে সেখানে আগুনের খবর পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কর্মকর্তারা। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। দগ্ধ আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক।
জেলা প্রশাসক বলেন, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় মোট কক্ষ ছিল নয়টি। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ছিলেন ১৬ জন পর্যটক।
এর আগে সকালে পাঠানো এক খুদে বার্তায় ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে স্টেশন থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ওই রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় তারা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন সকাল ১০টায় জানান, রিসোর্টটির তিনটি তলাই কাঠের তৈরি ছিল। আগুনে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে গেছে।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।
