Published on
:
2 min read
মাত্র ৬ মাসেই ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন তিনি। এর পরেই দেশজুড়ে শুরু হয় শোরগোল। এই নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই বদলি করা হয়েছে বিচারক রবিকুমার দিবাকরকে। মুজফফরনগরের ফাস্ট ট্র্যাক আদালত থেকে তাঁকে পাঠানো হয়েছে পরিরার আদালতে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে এই বদলি বলে রবিবার জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
মুজফফরনগরের ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক ছিলেন রবিকুমার দিবাকর। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস সময়ের মধ্যে ১১টি মামলায় ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। তাঁকে ওই আদালত থেকে বদলি করে পাঠানো হয়েছে পরিবার আদালতে। ওই আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারকের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে, সেখানকার ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে (fast-track court) অতিরিত জেলা এবং দায়রা বিচারকের দায়িত্ব নেবেন শিব কুমারী।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ২৩তম মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন রবিকুমার দিবাকর। স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেন তিনি। মুজফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক দিবাকর এতগুলি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। পর পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় তাঁর এজলাসে চলা ৯৭টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা সরিয়ে নেওয়া হয়। খুন এবং অন্য মামলার অর্ধেক শুনানি হয়েছিল। সেগুলি পাঠানো হয় বিচারক বীরেন্দ্রকুমার সিংহের এজলাসে।
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল আইনজীবী সমীর সাইফি খুনের মামলায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছলেন বিচারক রবিকুমার দিবাকর। এর পরে ২৮ এপ্রিল অন্য একটি খুনের মামলায় চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০ জুন দু’জনকে, ২ জুলাই এক জনের, ৬ জুলাই দু’জনের এবং ১৭ জুলাই আরও চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি। অগস্টেও একাধিক মামলায় পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরেও এক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তার পরই তাঁকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
১৯৮০ সালের ৫ জুলাই জন্ম রবিকুমার দিবাকরের। ২০০৯ সালে আজ়মগড়ে অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক হিসেবে কাজে যোগ দেন তিনি। এর পরে তিনি সুলতানপুর, বদায়ুঁ, বারাণসী এবং বরেলিতে সিভিল জজের দায়িত্ব সামলেছেন। গত বছরই মুজফফরপুরে বদলি করা হয় তাঁকে। ২০২২ সালে বারাণসীর জেলা আদালতের বিচারক থাকাকালীন জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরের ভিডিয়োগ্রাফি সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে খুনের হুমকির মুখেও পড়েছিলেন তিনি।
