এই একটি ঘটনা পাল্টে দিয়েছে একজন নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। ইশরাক হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা।
রাজপথে যাকে সব সময় দেখা গেছে কর্মীদের জন্য নিবেদিত একজন। এখন তিনিই রাজনীতিতে যেন পিছিয়ে পড়লেন। প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর স্টার নিউজের মুখোমুখি সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
মাদকবিরোধী অভিযানের দিন আসলে কী ঘটেছিল, তা জানতে চাইলে ইশরাক হোসেন স্টার নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দিকে একদল মাদকসেবী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি এসেছিল। এর আগে তাদের কাছ থেকে পাইপগানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ওই দিনও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তারা যখন এলো, তখন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আমার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি যদি পকেটে নিয়ে বসে থাকি, আর আমার দিকে গুলি ছোড়া হয়, তাহলে আমার কাছে ওই অস্ত্র থাকার কোনো মানে হয় না।’
বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইশরাক হোসেন জানান, এই ঘটনার ১২ ঘণ্টা পার হতেই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দেন তাকে। সবার কৌতূহল, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে কখন, কোথায় ডেকেছিলেন আর কী বলেছিলেন?
বিএনপির এই নেতা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুপুরে সময় দিয়েছিলেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। আমি আর তার সঙ্গে যাইনি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। পরে তিনি আমাকে আবার ক্যাবিনেটে ডেকে নিয়ে যান এবং আমার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। আমি সেখানে বসে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে অংশ নিই এবং আমরা মিটিংটি সম্পন্ন করি। মিটিং শেষ হওয়ার পর আমরা আবার তার অফিসে যাই এবং সেখানে কথা বলি। আলোচনা শেষে পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই।’
ইশরাক হোসেনের কাছে প্রশ্ন ছিল, এমন সিদ্ধান্তে দলের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ আছে কি না? বা শুধুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ফলেই পদত্যাগ করতে বলা, নাকি ভেতরে অন্য কোনো কারণ আছে?
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দল কখনোই চাইবে না যে তাদের মন্ত্রিসভার কোনো একজন সদস্য পদত্যাগ করুন। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা যেকোনো উপায়ে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।’
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়টি দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন তোলার পর থেকেই বিরোধী দলের নেতাদের তাঁর পক্ষে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে।
বিরোধী দলের নেতাদের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাকে সরাসরি ফোন করে বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আপনার যেকোনো কর্মকাণ্ডে আমরা পাশে থাকব। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। এ ধরনের কথা অনেকে বলেছেন।’
ইশরাক হোসেন দলের কঠিন সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন। জানতে চাওয়া হয়, আসছে নির্বাচনেও তিনি কি প্রার্থী হতে চান?
এ বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমার যেসব মূল নেতাকর্মী ২০২০ সাল থেকে আমার সঙ্গে কাজ করছেন, তারা সব সময় আমাকে ওই জায়গাটিতে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনও চান।’
