জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও শিক্ষা ব্যবস্থার চরম সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শুরু হওয়া আন্দোলন দাঙ্গা ও সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর দেশটির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহাল করতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু প্রয়োজন অনুযায়ী দেশটির আরও বেশ কিছু অঞ্চলে নতুন করে সান্ধ্য আইন বা ‘কারফিউ’ জারির ঘোষণা দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লেকোর্নু জানান, স্থানীয় প্রশাসন নিজ নিজ প্রশাসনিক অঞ্চলে কারফিউ জারি করার বিষয়ে মেয়রদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
গত শনিবার উন্নত শিক্ষা পরিবেশ ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফরাসি শিক্ষার্থীদের ডাকা আন্দোলনে দেশজুড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেয়। একাধিক স্থানে এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয় এবং অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। তবে সংকট সমাধানে তৎপরতা জোরদার করেছে ফরাসি সরকার।
ইতোমধ্যে ফ্রান্সের ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান লে হেনানফ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছেন। এক্স-এ এক বার্তায় তিনি জানান, সপ্তাহ ধরে লুট হওয়া মালামাল অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে, যা অবিলম্বে অপসারণের জন্য সামাজিক মাধ্যমগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী শনিবার বিক্ষোভকারীরা পুনরায় দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিলেও ফ্রান্সের মূল শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এখনও তাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানায়নি। বুধবার (২১ অক্টোবর) ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে এবং বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী লেকোর্নু।
আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ফরাসি জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ডানপন্থি দল ‘ন্যাশনাল র্যালি’-র নেত্রী মারিন ল্য পেন। আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বামপন্থি দল ‘লা ফ্রাঁস অ্যানসোমিজ’-এর নেতা জ্যাঁ-লুক মেলঁশঁ। দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না।
তবে বিরোধীরা এই ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, ফ্রেঞ্চ স্টুডেন্ট ইউনিয়নের মুখপাত্র অ্যালিস কোহেন-মোরজাদেক আল জাজিরাকে জানান, এটি প্রেসিডেন্ট মাখোঁর ভুল নীতি ও ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের এক প্রবল বিস্ফোরণ। দেশের প্রতি দুজন শিক্ষার্থীর একজন ঠিকমতো খেতে পারে না এবং প্রতি তিনজনের একজন স্থায়ী আবাসহীন। এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনা চালানো অসম্ভব।
