চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দুটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার বস্তা অবৈধ রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। শনিবার সন্ধ্যায় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে গোডাউন দুটি সিলগালা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির গোডাউনে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে সার মজুত ও চড়া দামে বিক্রির সত্যতা পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নাঈম হোসেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) একজন ডিলার হলেও তিনি সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত সার অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করে গোডাউনে জমিয়ে রেখেছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যবসায়ী নাঈম দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট তৈরি করে অবৈধ উপায়ে সার মজুত ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আসছিলেন। এর আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাঁকে একাধিকবার আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি অবৈধ কারবার অব্যাহত রেখেছিলেন বলে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ।
এই বিপুল পরিমাণ সার জব্দের পর অভিযুক্ত ব্যবসায়ী নাঈম হোসেনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তাঁরা স্পষ্ট করে জানান, কৃষকদের জিম্মি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, অসাধু এই ব্যবসায়ীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সচেতন মহল।
