রংপুরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কাউনিয়ায় দুর্গাপূজার প্যান্ডেল ও লাইটিংয়ের সরঞ্জাম খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাকিল উদ্দিন (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, বদরগঞ্জে দুর্গামন্দিরে আরতি দিতে গিয়ে অর্চনা রানী নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৈতার মোড় দিঘলটারী দুর্গামন্দিরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটে।
নিহত শাকিল উদ্দিন কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের মন্ডলটারী মধুপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও সাজেদা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি মধুপুর বাজারের ‘মাহিন সাউন্ড অ্যান্ড ডেকোরেটর’ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে নির্মিত প্যান্ডেল, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও লাইটিংয়ের সরঞ্জাম খুলে নেওয়ার কাজ করতে বুধবার সকাল ৮টার দিকে মন্দিরে যান শাকিল। প্যান্ডেল খোলার কাজ শেষ হওয়ার পর বিদ্যুতের লাইন ও লাইটিংয়ের সরঞ্জাম অপসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় জেনারেটরে হাত দিতে গেলে আকস্মিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শাকিল।
পরে মন্দিরে উপস্থিত লোকজন ও দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল বলেন, দুর্গাপূজার প্যান্ডেল ও লাইটিংয়ের সরঞ্জাম খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের নামাপাড়া দুর্গামন্দিরে আরতি দিতে গিয়ে অর্চনা রানী নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় পূজারিদের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে নামাপাড়া দুর্গামন্দিরে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন অর্চনা রানীও। তিনি দর্শকসারিতে বসে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আরতি উপভোগ করছিলেন। একপর্যায়ে বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভালো করে বাজাও, আমি গান করব, আরতি দেব, নাচব।’ এরপর দর্শকসারি থেকে উঠে দুর্গাপ্রতিমার সামনে আরতি দিতে যান তিনি।
আরতি দেওয়ার সময় একপাক ঘুরতেই হঠাৎ মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অর্চনা রানী। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উৎসবের মধ্যে এমন ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে পৃথক ঘটনায় দুইজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
