গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প দ্রুত চালুর দাবিতে গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন। প্রায় ১৪ বছর অপেক্ষার পর প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হলেও তা চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।
নির্দিষ্ট সময়ে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা, অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার, কোনো বড় পরিবর্তনের আগে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতামত গ্রহণ, বিলম্বের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা এবং বিকল্প এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গাজীপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা। রাজধানীর কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, দীর্ঘ যাত্রা সময়, তীব্র যানজট ও অকার্যকর গণপরিবহনের কারণে এলাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা কমছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ১৪ বছর অপেক্ষার পরও গাজীপুরবাসী কাঙ্ক্ষিত আধুনিক গণপরিবহন সেবা পাননি। দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। বিআরটি চালু হলে গাজীপুরে আধুনিক আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতের সম্প্রসারণ ঘটবে। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বের কারণে সেখানে চেইন হোটেল, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি ঢাকার ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডুয়েট অধ্যাপক বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরও এটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারিগরি, ব্যবস্থাপনাগত বা পরিচালনাগত সমস্যা থাকলে তা সমাধান করতে হবে। বিআরটি পরিচালনায় সমস্যা থাকলে পরিচালনা পদ্ধতি পরিবর্তন এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থাকলে কার্যকর ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকার মেট্রোরেল পরিচালনায় সরকার বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে প্রস্তুত থাকলেও গাজীপুরের বিআরটি চালুর ক্ষেত্রে অনীহা কেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনীহার পেছনে কোনো গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। প্রকল্পে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিগত যানবাহন ও অকার্যকর বাস ব্যবসার স্বার্থ রক্ষাকারীরা এর বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন।
এ ছাড়া রেল, মেট্রোরেল, স্থানীয় বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গাজীপুরবাসীসহ পরিবহন বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
বিআরটি করিডোরের বিকল্প হিসেবে ড্যাপ, ডিটিসিএ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত সালনা-উত্তরা-ধউর এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও জানায় সংগঠনটি।
এ সময় গাজীপুর সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন কায়সার, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. শামসুল হক, পুবাইল আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর মেট্রো বালিকা কলেজের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি মো. ফরহাদ হোসাইন, গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের সদস্য মো. আশরাফুল আলম প্রমুখ।
বিআলো/আর আই