শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই অধিকাংশ মানুষের লক্ষ্য থাকে একটি সুন্দর ও সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। পড়াশোনা শেষে কেউ সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। কেউ উচ্চশিক্ষা কিংবা গবেষণায় যুক্ত হন। আবার কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। পথ ভিন্ন হলেও সবার লক্ষ্য থাকে পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে পারলে ভবিষ্যতের পথচলা অনেকটাই সহজ হয়। শুরু থেকেই নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন ও প্রস্তুতি নিতে পারলে পেশাগত জীবনে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই যারা ক্যারিয়ার শুরু করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো–
আস্থা রাখুন নিজের প্রতি: নিজের কাজের ওপর আস্থা রাখুন। ব্যর্থতার কারণে অনেকেরই এমন কোনো পর্যায় আসে, যখন নিজের যোগ্যতার ওপর বিশ্বাস হারানোর উপক্রম হয়। নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে আপনি লড়াইয়ে দাঁড়াতেই পারবেন না। আর বিশ্বাস রাখলে আপনি সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবেন।
সাফল্যের পথ খুঁজুন: আপনার ঘাড়ে যদি এমন কোনো দায়িত্ব আসে যা অন্যদের কাছে মোটেও জনপ্রিয় নয়, তা হলে সেটাকে সমস্যা নয় বরং সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। কঠিন পরিস্থিতি যদি আপনি সামলাতে পারেন, তা হলে তা আপনার যোগ্যতাকে বাস্তবে প্রমাণ করে দেবে। বাড়তি খাটনি হলেও তাই এ ধরনের সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।
আত্মবিশ্বাসী হোন: নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সবাই অন্যের সফলতায় নিজে হতাশাগ্রস্ত হয় এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস কমতে থাকে। আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আপনার নিজের। তাই নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা খুব জরুরি।
আরো পড়ুন: এনআরবি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, লাগবে না অভিজ্ঞতা
ভবিষ্যতের দিকে নজর দিন: আপনার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আগামী দুই, পাঁচ কিংবা ১০ বছর পরে আপনি কোন অবস্থানে থাকতে চান, তা নির্ধারণ করুন। এর পর সে স্থানে পৌঁছানোর জন্য পরিকল্পনা করুন। মনে রাখবেন, খুব তাড়াতাড়ি কোনো কিছু হয় না। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।
ভালো লাগার কাজ খুঁজুন: আপনার জীবনের লক্ষ্য যদি হয় যথাসম্ভব টাকা উপার্জন আর সে রকম চাকরি যদি আপনি পেয়েই থাকেন তা হলে বলার কিছু নেই। কিন্তু আপনার লক্ষ্য যদি হয় ভিন্ন কোনো বিষয়, তা হলে এমন চাকরি ত্যাগ করাই ভালো। সেক্ষেত্রে আপনার সত্যিকার অর্থে ভালো লাগে, এমন কোনো কাজই খুঁজে দেখা উচিত।
সমালোচনাকে ভালোবাসুন: সমালোচকদের অনেক সময় অসহ্য মনে হতে পারে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, এ থেকে আপনার অনেক উপকার হতে পারে। সমালোচনাকে বাজেভাবে দেখার উপায় নেই। কারণ এ থেকে আপনি অনেক ভালো বিষয় বা বাস্তবসম্মত ধারণা পেয়ে যেতে পারেন।
পরামর্শদাতা খুঁজে বের করুন: ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞকে পরামর্শদাতা হিসেবে মানুন। তিনি যদি বলেন, কয়েকটি কোর্স করার জন্য, তা হলে তাই করুন। আপনার যদি সুযোগ থাকে তাহলে তার কাছ থেকে শিক্ষা নিন। এতে আপনার পরামর্শ ছাড়াও পেতে পারেন প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্কের সন্ধান। আর জীবনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এটি খুবই কাজে আসবে।
চাকরি বদল: প্রতিষ্ঠানে আপনার যদি প্রয়োজনীয় উন্নতি না হয়, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও সুযোগ-সুবিধা যদি না পান, তা হলে নতুন জায়গার সন্ধান করাই ভালো। আপনার প্রতিষ্ঠান কোন পথ দেখাচ্ছে তা যদি আপনার মনমতো না হয়, তা হলে উপযুক্ত জায়গা খুঁজে নেওয়াই উচিত। তবে এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরার প্রয়োজন আছে। কখনো কখনো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয় সঠিক সুযোগটি আসার জন্য।
ভারসাম্য রক্ষা করুন: বেশির ভাগ মানুষের ধারণা, শুধু কঠোর পরিশ্রম এবং লক্ষ্যবস্তুর পেছনে দৌড়ানোর মাধ্যমে সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শুধু এভাবে কঠোর পরিশ্রম করতে থাকলে একটা সময় আপনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি নিজের চিন্তাশক্তিকে সচল রাখা, সময়মতো খাওয়া, নিজের অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ্যে প্রাধান্য দেওয়া তথা মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা ও শারীরিক দিক দিয়ে সুস্থ থাকা সবকিছুই সমানভাবে জরুরি সম্ভব।
তারেক/
