রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগামী বছরও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের কাছে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি ইউরো দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ব্রাসেলসে ইইউ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি বলেন, আগামী বছর এই যুদ্ধে ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো খরচ হবে। প্রতিরক্ষা, অস্ত্র এবং ইউক্রেনের প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ইইউর কাছ থেকে আরও অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এই অর্থের পরিমাণ বাস্তবসম্মত। রাশিয়াকে প্রতিহত করতে সহায়তার জন্য তিনি ইইউ নেতাদের প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী ইইউ বর্তমানে কিয়েভকে দেওয়া ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছে। ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে সহায়তার উদ্দেশ্যে এই ঋণ দেওয়া হয়েছিল।
তবে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজেটে এখনো বড় ধরনের অর্থসংকট দেখা দেবে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউক্রেনকে অর্থায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে।
ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বাজেটবিষয়ক সম্মেলনের শুরুতে মের্জ বলেন, শীতকালজুড়ে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে এবং আগামী বছরও দেশটির পাশে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে অর্থের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আগামী বছর ইউক্রেনের ঠিক কত অর্থের প্রয়োজন হবে, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে তারা কিয়েভের সঙ্গে কাজ করছে। কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ডিসেম্বর মাসে আলোচনা করতে পারেন ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
নতুন অর্থায়ন নিয়ে আলোচনার ফলে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য জব্দ করা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্পদ ব্যবহারের দাবি আবারও জোরালো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। জব্দ করা সম্পদের অধিকাংশ বেলজিয়ামে রাখা হয়েছে এবং দেশটি এসব সম্পদ ব্যবহারের বিরোধিতা করছে।
এদিকে, ইউক্রেনের অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী দেশকে আরও অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এমএ
