নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরার দায়ে ২২ জেলেকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয় দুজনকে।
জেলেদের হেফাজতে থাকা ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ছয়টি মাছ ধরার নৌকা ও পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
সোমবার সকালে এসব তথ্য জানান সদর উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী এ কর্মকর্তা বলেন, জেলা ও উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় রোববার বিকাল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় চিরাচর থেকে ১৮ এবং দোকানরঘর এলাকা থেকে ছয়জেলকে আটক করা হয়।
পরে রাত ১২টায় কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল, মো. রহমত উল্লাহ ও তানভীর রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
এ সময় আটক ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদাণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০০টাকা করে জরিমানা করেন। আর বাকি দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন- দেলোয়ার হোসেন (৬০), দেলোয়ার হোসেন মোল্লা (৬০), মাইনুদ্দিন (৪৭), লিটন বেগ (৪৫), নিজাম প্রধানিয়া (৩৬), ইদ্রিস আলী (৩৫), জাহাঙ্গীর বেপারী (৩৫), কামাল বেপারী (৩৪), সুজন গাজী (৩০), সেলিম ফকির (৩০), মো. নজরুল (৩০), মো. রাসেল (৩০), শহীদ গাজী (২৯), নজরুল বেপারী (২৮), মনির মিজি (২৮), মনির বেপারী (২৮), রাসেল খান (২৬), রিফাত (২৫), রাসেল গাজী (২৫), মো. ইকবাল (২২), মোহাম্মদ হোসেন (১৯) ও নয়ন শরীফ (১৮)।
এসব জেলেদের বাড়ি চাঁদপুর ও পাশ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলায়।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আরও বলেন, জব্দ কারেন্ট জাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দ ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ এবং ছয়টি নৌকা কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রয়েছে।
