আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বামীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই সংসারে অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ। সেই বিবাদের জেরেই স্বামীকে গলা টিপে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার ফুলন্দর গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম জাহাঙ্গির মোমিন। পেশায় তিনি টোটোচালক। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রী নাভেরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার আচমকাই দোতলা থেকে নীচে নেমে পরিবারের সদস্যদের জানান নাভেরা, তাঁর স্বামী জাহাঙ্গির সিঁড়িতে পড়ে রয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ছুটে গিয়ে তাঁকে সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের দাবি, ততক্ষণে জাহাঙ্গিরের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই খবর দেওয়া হয় সামশেরগঞ্জ থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
তবে জাহাঙ্গিরের মৃত্যুকে স্বাভাবিক ঘটনা বলে মানতে নারাজ তাঁর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, গলা টিপে শ্বাসরোধ করে জাহাঙ্গিরকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় সরাসরি তাঁর স্ত্রী নাভেরা খাতুনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মৃতের ভাই শহিদুল মোমিনের দাবি, দাদা ও বৌদির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। তাঁর কথায়, জাহাঙ্গিরের গলায় দাগ দেখতে পেয়েছেন তাঁরা। সেই কারণেই মৃত্যুর পিছনে খুনের সন্দেহ করছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নাভেরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার তাঁকে জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করার কথা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন জাহাঙ্গির ও নাভেরা। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। ওই দম্পতির কোনও সন্তান ছিল না। অভিযোগ, সম্প্রতি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে অন্য এক মহিলার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দ্বিতীয়বার বিয়ে করে সন্তানের বাবা হতে চেয়েছিলেন জাহাঙ্গির। সেই বিষয়টি নিয়েও দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার আগের রাতেও দু’জনের মধ্যে বচসা হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
এই পরিস্থিতিতে দাম্পত্য কলহের জেরেই জাহাঙ্গিরের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc&t=3s
