জুলাই আন্দোলনে আ. জব্বারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি ও আওয়ামী লীগ নেতা দিলীপ কুমার আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আ. জব্বার (২১) নামে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় বুধবার (২১ অক্টোবর) এ আদেশ দেওয়া হয়।
বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উত্তরা পশ্চিম থানা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিনও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ। স্বর্ণ ও হীরা কেনার উৎস নিয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ওই রিমান্ড শেষে বুধবার তাঁকে জুলাই আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার মামলায় আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এ মামলার এজাহারনামীয় ৩১ নম্বর আসামি।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। রিমান্ড আবেদনে তাঁকে অন্য আসামিদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। পরে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারামুক্ত হন।
