রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আমন ধান আবাদ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা, জমির দখল নিয়ে বিরোধ এবং পুলিশের হস্তক্ষেপের পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির দাবিদার মো. বারকাত আলী ও তাঁর স্বজনেরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বারকাত আলী জানান, উপজেলার উমরাডাঙ্গী পদমপুর এলাকার ৭৫ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর দাবি, জমিটি বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে কিনে তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন।
বারকাত আলী বলেন, ২০১৩ সালে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা করেন তাঁরা। ২০১৪ সালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয় বলে দাবি করেন তিনি। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ৭৫ শতক জমির মধ্যে ১৫ শতক শ্মশানের জন্য, ২৫ শতক দ্বিতীয় পক্ষের ভোগদখলের জন্য এবং ৩৫ শতক তাঁদের দখলে থাকার কথা ছিল।
তাঁর ভাষ্য, ২০১৮ সালে মামলায় ডিক্রি পাওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে ৩৭ শতক জমির দখল পেলেও স্থাপনা থাকায় বাকি ৩৫ শতক বুঝে পাননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থাপনার ভিত্তি সরিয়ে তাঁরা ওই জমির দখল নেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বারকাত আলীর অভিযোগ, চলতি বছরের জুলাইয়ে জমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় তাঁর ছেলে মোকসেদুল ও ভাতিজা সাহেবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে জমিতে না যাওয়ার নির্দেশ দেয় বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বারকাত আলী আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সহযোগিতায় প্রতিপক্ষের লোকজন জমিতে মরদেহ সৎকারের মাধ্যমে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদের কাছে গেলে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বারকাত আলীর দাবি, বিরোধের কারণে চলতি মৌসুমে জমিতে আমন ধান আবাদ করতে পারেননি তাঁরা। আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতে জমির সীমানা ও দখল নির্ধারণ করে বিরোধের আইনানুগ সমাধান চান তিনি।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
