দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা কাটিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ, প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্পোর্টস ভিলেজ, সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ একাধিক মেগা প্রকল্প।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
শহরের যানজট নিরসন ও নগরায়ণ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং শহরের প্রধান প্রধান মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যানজট নিরসন ও নগর অবকাঠামোর প্রাথমিক উন্নয়নকাজের জন্য ইতোমধ্যে ৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।
তিনি জানান, বগুড়ায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ করা হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলার টেকসই উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর অবকাঠামো শক্তিশালী করতে আরও ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডিএ) গঠনের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি উপজেলার ডাকবাংলো ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়নেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
জেলার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, বগুড়ার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা ও বহুমুখী উচ্চশিক্ষার প্রসারে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বগুড়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, কৃষিতে উদ্বৃত্ত এ জেলায় বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ গত ২০ বছরে অঞ্চলটি কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস হলেও বগুড়াকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে।
দেশজুড়ে সুষম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং গোপালগঞ্জের জন্য ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট জেলার জন্য নয়; দেশের সব মানুষের জীবনমান উন্নত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এ সময় তিনি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানাতে এবং বগুড়ার সার্বিক অবকাঠামোগত অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদসহ অন্যরা।
