মুখোমুখি যুদ্ধে তালিবান যোদ্ধাদের তীব্র বাধার মুখে পড়েছে পাকিস্তান। সংঘাতের জেরে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক সেনা জওয়ানের। এহেন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানকে ভয়ংকর বিপদে ফেলার নীল নকশা সাজাতে শুরু করলেন পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির। রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানের পরিকল্পনা আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ বাধানো। সেইমতো, তালিবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে আফগান সেনা ও স্থানীয় ইসলামি মৌলবাদীদের একছাতার তলায় আনতে শুরু করেছে পাক সেনা। যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে বালোচিস্তানে বসেছে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরও।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তালিবানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামতে পাকিস্তান সেনার তরফে যাবতীয় উদ্যোগ সেরে ফেলা হয়েছে। বালোচিস্তানের মাটিতে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে। যাতে সেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু করা যায়। বালোচিস্তানের এক সাংবাদিকের মতে, তালিবানের হাতে মার খাওয়ার পর পাকিস্তান এখন আমেরিকার জমানার সেই আফগান সেনার যোদ্ধাদের একত্রিত করা শুরু করেছে। তাঁদের এই প্রচেষ্টায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতাও যুক্ত হয়েছেন। এদের নিয়েই বালোচিস্তানের ডালবন্দিনে তৈরি হয়েছে প্রশিক্ষণ শিবির।
দেশের লোকেদের ভরণপোষণে হিমশিম খাওয়া পাকিস্তান এখন এইসব যোদ্ধাদের প্রতিমাসে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা বেতন দিচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, কুচলাক ও কোয়েটাতেও একই ধরনের শিবির খোলা হবে। দেশের লোকেদের ভরণপোষণে হিমশিম খাওয়া পাকিস্তান এখন এইসব যোদ্ধাদের প্রতিমাসে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা বেতন দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, পাকিস্তানকে গৃহযুদ্ধে রক্তাক্ত করা। অবশ্য পাকিস্তানের এই কুকীর্তি এই প্রথমবার নয়, অতীতেও একইভাবে আফগানিস্তানে হস্তক্ষেপ করেছে পাক সেনা। আমেরিকার থেকে বিপুল অর্থ নিয়ে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তালিবান যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল পাকিস্তান। পরে মার্কিন ডলারের লোভে পাকিস্তান তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমেরিকাকে সাহায্য করে। যার পরিণতি আফগানিস্তানের উগ্রপন্থী এবং উদারপন্থী দুই শিবিরই পাকিস্তানকে ঘৃণা করে। এখন তালিবান আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসায় তাদের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র শুরু করল মুনির প্রশাসন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাকিস্তান বরাবর চেয়েছিল তালিবানকে নিজেদের হাতের মুঠোয় আনতে। প্রাথমিকভাবে তালিবান যখন আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করে সেই সময় পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক ছিল। পরে মার্কিন আগ্রাসন ও তাদের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুরো চিত্র পালটে দেয়। ২০২০ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর যখন মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান থেকে সরে যায়, তখন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একে দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙা বলে অভিহিত করেন। কিন্তু তালিবান তার বন্ধুত্বের প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকে বহুবার ছোট-বড় সংঘাতে জড়িয়েছে দুই দেশ। তালিবানের অভিযোগ, পাকিস্তান তাদের দেশকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে ইসলামাবাদের অভিযোগ, তালিবান টিটিপি জঙ্গি সংগঠনকে মদত দিচ্ছে। যার পরিণতি দফায় দফায় রক্তাক্ত হচ্ছে ডুরান্ড লাইন।
