২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা ও বাকস্বাধীনতার ওপর একটি বিশেষ তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ : পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক এই বিস্তারিত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা ও বড় ধরনের স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর মুক্ত কার্যক্রম, জনসভা ও রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের পরিসর বিগত সরকারের আমলের তুলনায় বহুগুণ বিস্তৃত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করে রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য ও নীতিনির্ধারক, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সাংবাদিক, সুশীল সমাজের
প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নতুন গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ অন্যান্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো বর্তমানে কোনো সরকারি বাধা বা পুলিশের অনুমতি পাওয়ার জটিলতা ছাড়াই দেশের যে কোনো প্রান্তে প্রকাশ্য জনসভা, মিছিল এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে। দলগুলো খোলাখুলিভাবে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করছে, যা দেশে একটি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে।
চব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে জাতীয় বা কেন্দ্রভিত্তিক রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক সহিংসতা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতার ঘটনা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তা সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় সহিংসতা অনেক কম হয়েছে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতাও কমেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ ইউকে প্রতিনিধি দলকে বলেন, ‘সরকার, পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনী আগের চেয়ে ভালো আচরণ করছে। ফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং তারা সাধারণ মানুষকে সম্মান করছে। পরিস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। তবে রাজনৈতিক দল, সাধারণ নাগরিক ও একটি জাতি হিসেবে আমাদের করার মতো অনেক কিছু বাকি আছে এবং আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বিগত শাসনের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে বিরোধী দলগুলোর পক্ষে কোনোভাবেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না এবং এখন পরিস্থিতি বেশ স্বাভাবিক; রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত স্বাভাবিক বলা চলে। সরকার তার দায়িত্ব পালন করছে, যদিও তারা কিছু ভুল করে, তবুও আমরা বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সমালোচনা করার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছি।’
আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বরাতে বলা হয়েছে, আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদের মতো দলগুলো নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। তবে নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে দলগুলোর মাঝে এক ধরনের বোঝাপড়া কাজ করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে বহুদলীয় ফোরামের কারণে আন্তঃদলীয় হামলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। নতুন গঠিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের জুলাই সনদের বদলে নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী দেশ চালানোর নীতি গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া জনসাধারণের সাথে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সাধারণ মিথস্ক্রিয়া এবং ব্যবহারে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনিভাবে আটকের মতো প্রবণতা পূর্বের চেয়ে কমেছে।
তবে এই ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি প্রতিবেদনে গভীর পর্যালোচনা ও উদ্বেগের সাথে বলা হয়েছে— অভ্যুত্থানপরবর্তী শাসনতান্ত্রিক রূপান্তর, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিচারিক সংস্কার, পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং পূর্ণাঙ্গ বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ ও অংশীদারদের যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব ক্ষেত্রে তার গতি এখনও বেশ ধীর ও সীমিত।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) বলেন, ‘জবাবদিহিতা বা ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশের কোনো শক্তিশালী রেকর্ড নেই। দুর্ভাগ্যবশত নতুন সরকারের আমলেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। সাধারণত সরকারে খুব বেশি নতুন মুখ দেখা যায় না, তবে এবারের সংসদে বিষয়টি ভিন্ন কারণ দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যই নতুন। তা সত্ত্বেও পুরনো বন্দোবস্তের মানসিকতাটিই এখনও ক্ষমতার হাল ধরে রেখেছে। তাই খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। নীতি ও আদর্শগুলো এখন পেছনের সারিতে চলে গেছে এবং আমরা পুরনো কায়দায় কাজ করার সেই পুরনো ধারাতেই ফিরে গেছি।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশ প্রশাসন প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, আচরণগত সামান্য পরিবর্তন সত্ত্বেও, পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব, পেশাদার ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য যে গভীর কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল, তা এখনও অর্জিত হয়নি। পুলিশের কর্মদক্ষতা, লজিস্টিক সংকট এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রক্রিয়া কিছুটা গতিহীন বলে প্রতীয়মান হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা ২১ হাজারেরও বেশি মামলা পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকা বা পলাতক হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আইনি সুযোগ পেয়েছেন।
সার্বিক আইনি ব্যবস্থার উন্নতি হলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা সমালোচকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা দায়েরের পুরনো চর্চা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে বলা হয়েছে।
বাকস্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যম ও সুশীল সমাজের অবস্থান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর অতীতের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সরাসরি ভয় দেখানোর সংস্কৃতি বা সেন্সরশিপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাংবাদিক ও কলামিস্টরা এখন অবাধে নীতিনির্ধারণী বিষয়ে মতামত দিতে পারছেন। তবে গণমাধ্যম খাতের স্থায়ী সুরক্ষার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত মন্থর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের মধ্যে এক ধরনের পরোক্ষ আত্মসংযম রয়ে গেছে।
মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলো (যেমন সুজন, ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন ইত্যাদি) এখন তাদের কার্যক্রম অবাধে পরিচালনা করতে পারলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের দেওয়া সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রশাসনিক অনাগ্রহ বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দৃশ্যমান।
মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে নিপীড়ন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছিল কুখ্যাত ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে, যা সরকারের সমালোচনাকারী সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করত। বর্তমানে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং জেনেশুনে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে একটি নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা পুরনো আইনটিকেই নতুন নামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং তাদের বক্তব্য হলো এটি অপতথ্য প্রতিরোধের জন্য। এই বিধানটি পুনর্বহাল করা হলে এর অপব্যবহারের পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।”
সংস্কার সম্পর্কে বলা হয়েছে, জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল রাষ্ট্রীয় ও কাঠামোগত সংস্কার এবং কর্মসংস্থান। বিশেষ করে যুবসমাজ ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর মূল ফোকাস ছিল দেশ পুনর্গঠনে সংস্কার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। সরকার কিছু নির্দিষ্ট ও প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি যেমন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ইত্যাদি কিছু অগ্রগতি দেখানোর চেষ্টা করেছে। তবে বৃহত্তর এবং কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও জোরালো পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে সরকারের মেয়াদ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সংস্কারের গতি অত্যন্ত ধীর।
মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা প্রকৃত সংস্কারের কিছু লক্ষণ দেখেছিলাম এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য তাদের একটি স্পষ্ট পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে সেই উদ্যোগগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন, সহিংসতা এবং অতীত শাসনের দমন-পীড়নের কারণে আওয়ামী লীগের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক রাজনীতি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দলটির অধিকাংশ প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে গেছে।
প্রতিবেদনে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে দুই ধরনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে যেসব নেতা দুর্নীতি, নির্যাতন বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তারা আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন বা আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে যারা স্থানীয়ভাবে কোনো অপরাধ, দুর্নীতি বা সহিংসতায় যুক্ত ছিলেন না, তারা নিজেদের এলাকায় বসবাস করতে পারছেন। তবে তারা যদি প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা মিছিল আয়োজনের চেষ্টা করেন, তবে তারা সাধারণ জনগণের ক্ষোভ, স্থানীয় বিরোধীদলীয় কর্মীদের রেজিস্ট্যান্স বা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য জীবা খান বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং রাজনীতিবিদদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মাঝে পরিবর্তন এসেছে। দুর্নীতির পরিবেশ এখনও বিদ্যমান, তবে সব জায়গায় আগের মতো সেই মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে নেই; সেই মাত্রা এখন কিছুটা কমেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খাদ্যের বাজেট হলো মাত্র ১০০ টাকা, যা একটি ছোট এবং সাদামাটা খাবার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এভাবেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তিনি চান আমরা যেন মিতব্যয়ী হই।’
জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিএনপির বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত সব সময় আমাদের হুমকি দেয় যে তারা ওয়াকআউট করবে, কিন্তু আমরা তাদের সাথে কথা বলি এবং বলি যে চলুন আমরা সেই পুরনো দিনে ফিরে না যাই। চলুন আমরা একসাথে কাজ করি এবং সামনে এগিয়ে যাই।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার ও নতুন বাজেট প্রসঙ্গে বিএনপির সংসদ সদস্য জীবা খান আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ আমরা (দ্বিমতের নোটসহ) চার্টারে স্বাক্ষর করেছিলাম। সংস্কার আসতে হবে, তবে তা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে। কোনো বিষয়ে কেবল চার্টারে স্বাক্ষর করে সেটিকে হুট করে আইন বানিয়ে ফেলা যায় না। আমরা সবেমাত্র বাজেট পাস করেছি এবং বাজেট এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমাদের এখন যা প্রয়োজন তা হলো— সম্প্রতি পাস হওয়া আইনগুলোর মতো চার্টারের প্রতিটি পয়েন্ট সংসদে আলোচনার জন্য উত্থাপন করা এবং এর পর ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস করা।’
এ ছাড়া সাংবাদিক, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও আইন বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচকসহ বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
