গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কাঠ পুড়িয়ে অবৈধভাবে কয়লা তৈরির ৪৫টি চুল্লি ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই অভিযান পরিচালনা করেন গোবিন্দগঞ্জের এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ ইমরান খান।
মহিমাগঞ্জের পান্তামারী গ্রামের লোকজন অভিযোগে জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মাস্তান ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফসলি জমির মধ্যে ৪৫টি চুল্লি তৈরি করেন। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে লাকড়ি এনে তাতে আগুন দিয়ে কাঠ পোড়ানো ও বিক্রি করা হয়। ধোঁয়া ও আগুনের উত্তাপে এলাকার আবাদি জমি, আমের মুকুল, নারকেল গাছের ফুলসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ধোঁয়ার কারণে অনেকের শরীরে নানা রকম রোগ দেখা দেয়। এলাকার পরিবেশে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আজ (বুধবার) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এসিল্যান্ড তামজিদ ইমরান খান, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের লোকজনসহ ওই গ্রামে পৌঁছে ৪৫টি চুল্লি ধ্বংস করেন। এ সময় চুল্লি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সটকে পড়ে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এটি চলে আসছে। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।