কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে ১০০০-এর উপর বইয়ের স্টল হয়েছিল এসইউসিআইয়ের। দশমীর পর দিনের হিসাব বলছে, ১০০টির বেশি জায়গায় তাদের স্টলে ভাঙচুর হয়েছিল। তার জন্য কোথাও বিজেপি, কোথাও আরএসএস, কোথাও পুলিশের দিকেই আঙুল তুলেছে তারা। কিন্তু চমকে দিয়েছে অন্য তথ্য। দশমীর পর প্রাথমিকভাবে যে পরিসংখ্যান এসেছে তাতে এসইউসি নেতৃত্ব জানাচ্ছে, শুধু কলকাতার স্টলগুলিতেই ১০ লক্ষ টাকার বেশি বই বিক্রি হয়েছে। রাজ্যের অন্য জেলা থেকে এখনও তথ্য আসেনি। তবে রাজ্যজুড়ে সিপিএমের স্টল থেকেও এবার পুজোয় রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে বলেই খবর।
সিপিএম তাদের স্টলে নিজেদের বই ছাড়াও অন্য প্রকাশনীর বই রাখে। কিন্তু এসইউসিআইয়ের স্টলে শুধুমাত্র তাদের প্রকাশনার বইই মেলে। যেসবের দাম ১০ টাকা থেকে শুরু। মার্কসবাদের উপরই বিশ্বজুড়ে নানা মনীষীর বই থাকে তাদের স্টলে। সঙ্গে সমাজবাদের উপর থাকে দেশ তথা বিশ্বের চিন্তাবিদদের আলাদা কিছু বই। তাদের মধ্যে মার্কসবাদ ছাড়া, স্বামী বিবেকানন্দের সমাজভাবনা, আইনস্টাইনের বিজ্ঞানভাবনার উপর বই এবার সব থেকে বেশি বিক্রি হয়েছে এসইউসিআইয়ের স্টল থেকে। দলের ‘ফিল্ড রিপোর্ট’ বলছে, স্টল ভাঙার প্রতিবাদে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন পাঠকরা। স্টল ভাঙার ‘প্রতিবাদস্বরূপ’ তাঁরা বই কিনে সেসব সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন দলের কর্মীদের সামনেই।
এই হারে বই বিক্রি নিয়ে দলের রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য সমস্ত বামপন্থী দলের বুক স্টলে হামলার জন্য আবারও বৃহস্পতিবার বিজেপি, আরএসএস-সহ নানা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে নিশানা করেছেন। তাঁর বিবৃতি অনুযায়ী, “১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বিজেপি, আরএসএস বামপন্থী দলগুলোর বইয়ের স্টলে হামলা, ভাঙচুর চালিয়ে গিয়েছে। বই ছিঁড়ে ফেলেছে, জলে ফেলে দিয়েছে, এমনকী, মার্ক্স, লেনিনের মতবাদের বই ছাড়াও নবজাগরণের মনীষী বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, সুভাষচন্দ্রের সম্পর্কিত বই পদদলিত করতেও তারা পিছপা হয়নি।”
পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কাজ হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। স্টল ভাঙার পরও দলের রিপোর্ট অনুযায়ী তা কোথাও পুনর্নির্মাণ করে, কোথাও টেবিল-চেয়ার পেতে খোলা আকাশের নিচে স্টল চালানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বহরমপুরে এক চক্ষু চিকিৎসক ডা. অশোক কুমার ভকত নিজে স্টলের সমস্ত বই কিনে ছাত্র-যুবকদের মধ্যে বিলি করেছেন। তাদের দাবি, ‘বই কেনার স্বতঃস্ফূর্ততা এমন মাত্রায় পৌঁছেছিল যে বহু স্টলে দলের সব বই বিক্রি হয়ে গেছে এবং এখনও পর্যন্ত যা খবর পৌছেছে তাতে গত বছরের তুলনায় ৪০-৫০ শতাংশ বেশি অর্থের বই বিক্রি হয়েছে।’
