সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছ থেকে সর্বোচ্চ অর্জন আশা করছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
শনিবার বিকালে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আশা করব যে সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই। এবং যতটুক অর্জন হবে সেটাই আমাদের লাভ। তবে আমরা চাই সর্বোচ্চ অর্জন যেন হয়।”
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা কি চেয়েছিলাম আইনের মধ্যেই আপনারা বুঝতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সংবিধানে যেকোনো পরিবর্তনই একটা সংস্কার যদি এটা ইতিবাচক হয় এবং আমি বিশ্বাস করি আল্টিমেটলি আমরা লক্ষ্যটা অ্যাচিভ করতে পারছি কিনা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সেটা হচ্ছে বেশি ইম্পর্টেন্ট, কি প্রক্রিয়া করলাম সেটা হচ্ছে বেশি ইম্পর্টেন্ট।”
সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে শুরু হয় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক।
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরুতে হোঁচট খায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির বিজয়ীরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ীরা দুই পদেই শপথ নেন।
গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধীদের মাঠের আন্দোলনের মধ্যেই বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, যেখানে প্রতিনিধি দেয়নি বিরোধীরা।
সংবিধান সংশোধন কমিটি ইতোমধ্যে রাজনীতি দল ও জোট, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক, বিশিষ্ট নাগরিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, নারী নেতৃত্ব, গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন সঙ্গে বৈঠক করেছে।
শনিবারের বৈঠকে সংবিধানে সর্বজনগ্রাহ্য সংশোধনী খসড়া প্রণয়ন, সার্বিক সংস্কার, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইন বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত ও পরামর্শ দেন।
দুপুরের পর পর বৈঠক থেকে বের হয়ে আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “সংবিধান যে পর্যায়ে আছে এখন তার চেয়ে যেন আমরা অনেক অ্যাডভান্সড একটা সংবিধান পাই। যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে, আর কি এটা একটা রাজনৈতিক বিরোধ এটার মধ্যে আমি যেতে চাচ্ছি না।
“প্রতিষ্ঠান যেগুলো রয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সেগুলি নিয়ে কথা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আর হচ্ছে আপনার কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট কি ফর্মে গঠন করা হবে, সেটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কথা হচ্ছে এখনো। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে, আর্টিকেল ৭০ নিয়ে কথা হয়েছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, “এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে সম্ভবত ২০১১ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তদের নেতৃত্বে যে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং হয়েছিল সেখানেও আমি ইনভাইটেড হয়েছিলাম, কথা বলেছিলাম ওখানে। আমরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু পরে প্রতারিত হয়েছি। পরে দেখলাম যে মানে খুবই নিন্দিত একটা সংশোধনী পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এটা তো সেকেন্ড আশা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে, তো আশা করি এবার আমরা আরো ভালো পরিবর্তন পাবো, গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশাটা যেন আমাদের মাথায় থাকে সেটা আপিল করেছি।”
আসিফ নজরুল বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন যে বাদ করা হয়েছে এটা নিয়ে আমি আমার হতাশা প্রকাশ করেছি এবং স্মরণ করিয়ে দিয়েছি যে বিএনপির নিজস্ব যে কমিটমেন্ট সেটাও ছিল এগুলোর পক্ষে। তখন মাননীয় আইনমন্ত্রী আমাকে বলেছেন যে এটা ওনারা আইন করবেন পরে। এটা ওনারা বাদ দিয়েছেন মানে একদম সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিয়েছেন, এমন না।”
সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলো নিয়ে কমিটিকে পরামর্শ দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি রিকোয়েস্ট করেছিলাম যে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা কমিটির প্রধান হিসেবে যেন বিরোধী দলের সদস্যদের রাখা হয়। তো এটার ব্যাপারে কোন উত্তর পাইনি।”
স্থায়ী কমিটিগুলো যেন ঠিকমত কাজ করতে পারে এজন্য সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে একটা আইন প্রণয়নের থাকার কথা তুলে ধরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এ আইন উপদেষ্টা বলেন,
“আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব বলেছেন যে এটা ওনারা করবেন।”
বৈঠকে আইনজীবী শাহদিন মালিক ও মাহবুব উদ্দিন খোকন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানসহ প্রায় ৪৪ জন বিশেষজ্ঞ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
